সাপ রেসকিউ : মৃত্যু ও কিছু কথা

দীপক চক্রবর্তী
(লেখক : ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সদস্য এবং সাপ সমস্যা ও প্রতিকার গ্রুপের পরিচালক )

আসলে কষ্টটা কোথায় হয় বন্ধুরা জানেন যখন দেখি সাপ উদ্ধার করার ক্ষেত্রে বারংবার ভুলগুলো সাপ উদ্ধারকারী বন্ধুদের ধরিয়ে দেওয়ার পরও সেই একই ভাবে বোকামির মত পুনরায় সেই ভুল গুলো করে যাওয়া। ইদানীং তো দেখছি বেশকিছু তথাকথিত সর্প বিশেষজ্ঞ নিজেদের নামে ইউটিউব চ্যানেল খুলে কে কত বেশি খালি হাতে সাপ ধরতে পারেন তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। হিরোগিরি দেখিয়ে মানুষকে সচেতনতার বার্তা দেওয়ার থেকে সাপ নিয়ে খেলা দেখাতেই দেখছি এদের মুখ্য বিষয়।হ্যাঁ আমি বঙ্কিমের ঘটনাকে সাপ নিয়ে খেলা দেখানোই বলবো। মানুষকে সাপ নিয়ে সচেতন করার অনেক পদ্ধতি আছে। এগুলো মোটেই যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতি নয়। আমি বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেল ঘেটে দেখেছি আসলে এরা সাপ উদ্ধারের নামে বন্যপ্রাণীটীকে শুধু কষ্ট দিচ্ছেন নয় নিরাপদে আগে সাপটিকে ব্যাগার বন্দি না করে এক প্রকার সাপকে বিরক্ত করে ফনা তুলিয়ে নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলের ভিউয়ারস বাড়ানোর জন্য ভিডিও তোলার দিকেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ হয়ে পড়ছেন। আর তার খেসারত হিসেবে দিতে হয় অমূল্য জীবন।

বিজ্ঞান কর্মীর মৃত্যু দেখেও :-

আমরা ভুলে গেছি বেশ কয়েক বছর আগে ক্যানিং যুক্তিবাদী সমিতির জয়দেব এবং বছর দেড়েকের সামান্য কিছু আগে ব্যারাকপুর নিবাসী বিজ্ঞান মঞ্চের বর্ষীয়ান সদস্য অনুপ ঘোষের কথা। এরা দুজনেই ছিলেন সর্প প্রেমী এবং সাপ উদ্ধারের কাজে নিয়োজিত প্রাণ। জয়দেব গোসাবাতে বিষধর কেউটে রিলিজ করতে গিয়ে অসাবধানতার কারণে কেউটের কামড় খেয়ে বসেন এবং ভাবুন হাসপাতালে নিওস্টিগমিন ওষুধটি না থাকার ফলে এবং শেষমেশ জয়দেব মণ্ডলের শরীরে পেশীতে এই ইঞ্জেকশন না দেওয়ার কারণে ছেলেটি মারা যান। আর অনুপ বাবু ব্যারাকপুরের এক বাড়ি থেকে বিষধর চন্দ্রবোড়া উদ্ধার করার পরে সাপটিকে ব্যাগে ঢোকাতে গিয়ে কামড় খেয়ে বসেন এবং তাকে নৈহাটি হাসপাতালে ভর্তির পর পর্যাপ্ত এ,ভি,এস না দেওয়া কিংবা এ,ভি,এস ঠিকঠাক মতো কাজ না করার ফলে তাকেও বিদায় নিতে হলো এই পৃথিবী ছেড়ে।
জয়দেবের মৃত্যুটাকে যদি আমরা সত্যিই সতর্কবাণী হিসেবে নিতাম তাহলে মনে হয় অনুপ বাবুকেও এত তাড়াতাড়ি আমরা হারাতাম না। জানিনা সেই মুহুর্তে অনুপ বাবুর কি প্রয়োজন ছিলো ঘটনাস্থলেই সাপটিকে হাতে ধরে রেখে উপস্থিত মানুষজনের ভীড় দেখে আবেগতাড়িত হয়ে সাপ সম্পর্কে এভাবে বর্ননা দেওয়ার।
মানুষ মাত্রই ভুল করেন এটা স্বাভাবিক কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায় আমরা কি সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। না কি দু’ দিন মনে রেখে তারপর যেই কি সেই। ৯০ দশকে যখন প্রথম আমার সাপ নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয় তখন আমার মতো আমাদের বেশ কিছু বন্ধুও আবেগতাড়িতভাবে ভাবে জীবন্ত সাপ হাত দিয়ে ধরে ছবি তুললেন সাথে আমিও।খুব মনে পড়ে চাঁদ পাড়ার নির্মল দা তখন আমাদের সাপ কিংবদন্তী ও বিজ্ঞান শীর্ষক অনুষ্ঠানে জীবন্ত বিষধর সাপ নিয়ে আসতেন। সেই সময়ে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনের এত কড়াকড়ি ছিলো না। তবুও এখন বুঝতে পারছি আমরা তখন ঠিক করিনি। নির্মল দার বাড়িতে গিয়ে আমি বিষধর কেউটে হাতে নিয়ে ছবিও তুলেছি। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা জুড়ে তখন চলছে যুক্তিবাদী সমিতির চাকদহ শাখার পক্ষ থেকে মরুৎ দার তত্বাবধানে সাপের স্লাইড শো। পাশাপাশি সাপের কামড়ে হাসপাতাল গুলোতে এ ভি,এস রাখার দাবিতে জোরদার প্রচার কর্মসূচি। ব্যক্তিগত ভাবে আমার ৯০ দশকে চাকদহতে সারাদিনের একটি সাপ বিষয়ক কর্মশালায় সাপ নিয়ে জানার পাশাপাশি হাতে কলমে সাপ ধরার কৌশলও সামান্য কিছুটা হলেও প্রাথমিক বিষয়টুকু শেখা ওই কর্মশালা থেকে। আর এই শেখার পর শুরু হয়ে গেলো আমারও পাকাপাকি ভাবে সাপ নিয়ে কাজ করা।

ভুল থেকে শিক্ষা এবং ভুল না করার শপথ –

মরুৎ দার নতুন বই সদ্য প্রকাশিত সাপ কিংবদন্তি ও বিজ্ঞান তখন আমাদের মতো বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কর্মীদের কাছে যেনো সাপকে চেনা ও জানার এক আদর্শ পাঠ্য পুস্তক। বয়স কম দৈনিক সন্ধ্যের পর সেই সময় অশোকনগর ৮ নং কালীবাড়ি মোড়ে গৌরাঙ্গ দার দোকানে আড্ডাটা নেহাৎ মন্দ হতো না। এমনই এক সন্ধ্যায় হটাৎই পাশের দোকান থেকে চিৎকার দীপক সাপ। তাকিয়ে দেখি হ্যাঁ সত্যিই তো সাপ। দোকানের বেড়ার ধার ঘেষে গৌরাঙ্গ দার দোকানের ভিতরে তেলের টিনের পাশে ঘাপটি মেরে আছে বিষধর কালাচ। সাপ মানেই আতঙ্ক তার উপর কালাচ। স্থানীয় সবাই লাঠি নিয়ে হাজির এই কালাচ সর্প নিধনে। আমি বেচারি কি করি অকারণে সাপটিকে মেরে ফেলবে এই ভেবে শুধু একটা ছোট্ট লাঠির সাহায্য নিয়ে কালাচের মাথাটিকে চেপে ধরে হাত দিয়ে সাপটিকে ধরে বোতলে বন্দী করে নিলাম। সে যাত্রা বেচারি কালাচকে তো বাঁচিয়ে দিলাম কিন্তু আমি হয়ে গেলাম সেই সময় থেকে সাপ ধরার মাস্টার। সেদিন খালি হাতে সাপ ধরে কি মারাত্মক ভুল করেছিলাম পরবর্তীতে মরুৎদার বকায় তা বুঝেছিলাম। সেদিনের এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তারপর থেকে আজও অবধি কোনও বিষধর সাপ খালিহাতে ধরেনি। ভাবতে পারেন এটা আমার শপথ। মরুৎদার কাছ থেকে শিখেছিলাম হিরোগিরি নয় পরিবেশে সাপকে বাঁচিয়ে রেখে এবং নিজেদের জীবনকে সুরক্ষিত রেখে তবেই আমরা জনমানসে সাপ বিষয়ক সচেতনতা মুলক প্রচার কর্মসূচি চালিয়ে যাবো। পরবর্তীতে জীবন্ত সাপ নিয়ে আমরা আর অনুষ্ঠান করিনি এবং আজও করিনা। সাধারণ মানুষকে সাপ চেনানোর জন্য জীবন্ত সাপ নিয়ে বা হাতে ধরে চেনানো আজ সত্যিই এটা মুর্খামি। সাপের ছবি দেখিয়েই অনায়াসেই সকলকে সাপ চেনানো যায়।

হিরোগিরি না মুর্খামি : একে কি বলা যায়?

সাপ সমস্যা ও প্রতিকার নামে গ্রুপটি খুলেছিলাম তার একটি জনমুখী উদ্দ্যেশ্য ছিলো আমার। এই গ্রুপের মধ্যে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে যারা সাপ নিয়ে কাজ করছেন তাদের একটি ছাতার তলায় এনে গ্রুপের সদস্যরা সকলে সকলকে জানা ও বোঝা এবং পারষ্পরিক জানা না জানা সাপ বিষয়ক অজানা তথ্য গুলোকে জেনে সকল সাথিদের এক সুত্রে বাধা এই ছিলো আমাদের ভাবনা। এছাড়াও ভুল গুলোকে ধরিয়ে দেওয়া, নিজের ভুল গুলো জেনে নেওয়া সর্বোপরি ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এক সাথে এগিয়ে চলা। কিন্তু বড়ই দুঃখের এই বিষয়টি সকল সাথিদের বোঝাতে আমরা হয়েছি অক্ষম। তবে সবাই যে হিরোগিরির জন্য এই কাজ করছেন এমনটি কখনই বলবো না। বেশ কিছু সাথিরা ভীষণ সর্তকতার সাথে অসাধারণ সাপ নিয়ে কাজ করছেন। সকলের নাম এই মুহুর্তে মনে না পড়লেও উওরবঙ্গের অভিমূন্য, অর্ধেন্দু, কৌশিক, মালদহের জয়ন্ত, সোনামুখির স্বপন সহ দক্ষিণ ও উওর বাংলার অনেকেই আছেন সঠিক পদ্ধতি মেনে সাপ রেসকিউ করার। এদের থেকে যে শুধু আমি শিখছি তাই নয় দীর্ঘ ৫৩ বছর ধরে এই বাংলায় সাপ নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা যার অনেক বেশি সেই মরুৎদার মতো মানুষও আমায় ফোনে বলে নতুন ছেলেগুলোর কাছ থেকে কত কিছু জানছি রে সাপের গ্রুপটাকে ঠিক ঠাক ভাবে ধরে রাখ। কিন্তু দুঃখের বিষয় বেশ কিছু বন্ধু সমালোচনাটাকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ইগো পর্যায়ে নিয়ে গ্রুপ ছেড়ে চলে গেছেন। যারা ভুলগুলো ধরিয়ে বলতেন তারা কিন্তু সেই সাথি বন্ধুদের ভালোর জন্যই বলতেন। গ্রুপ কারও ভালো না লাগলে গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যেতেই পারেন। কিন্তু মনে রাখা উচিত সাপ কিন্তু মানুষের বন্ধু নয় সাপ অবশ্যই আমাদের সমাজের ও প্রকৃতির বন্ধু। আমরা প্রকৃতিকে ভালোবাসি বলেই সাপকেও ভালো বাসি। কিন্তু সাপ উদ্ধারের নামে কিছু কিছু সাথি বন্ধুরা যা করছেন সেটা কি সত্যিই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি ? সাপ উদ্ধার করারও একটি প্রটোকল আছে এবং সেই প্রটোকল মেনে সর্প বন্ধুরা সাপ উদ্ধার করেন। প্রটোকল মেনে কাজ করতে গিয়েও দুঃঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু তারও তো একটা লজিক থাকবে। পরবর্তীতে সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার আমরা নতুন করে নতুন ভাবে শুরু করতে পারবো তাই না। এটাই তো প্রকৃতির থেকে আমাদের প্রতিদিনকার শিক্ষালাভ। কিন্তু কোনো প্রটোকল মানবো না, বেশি লোকজন দেখে নিজের খালি হাতে সাপ ধরার করিশমা দেখাবো, অকারণে সাপকে উত্তেজিত করবো, আর সাপ আমার আপনার এই আহাম্মকের মতো করিশমা দেখে ভেবেছেন হাততালি দেবে। বিষধর সাপ যেটা পারে সেটাই করেছে। সাপের স্বভাব অনুযায়ী ছোবল মেরে কামড়ে ধরেছে।

মুর্খামি কাকে বলে এটাও শিখলাম

আসলে সাপ নিয়ে আর শেখার তো কিছু নেই। সাপের স্বভাব আমরা সব শিখে গেছি। এ সাপ তো আমার বন্ধু। তাই ইউটিউব চ্যানেল খুলে যত মুর্খামি গুলো আছে সেগুলো এক এক করে নতুন নতুন ভিডিও বানিয়ে পোষ্ট করবো। আর বেশ কিছু মানুষ সেই দৃশ্য উপভোগ করবেন এবং কমেন্টসে প্রশংসার ফুলঝুরি ছোটাবেন। আমি আরও বেশি আহ্লাদিত হয়ে সেই ভিডিও বানানোর জন্য সাপ উদ্ধারের নামে সাপের খেলা দেখাতেই থাকবো। তারপর বঙ্কিমের মতো গোখরোর কামড় খেয়ে হাসপাতাল যেতে যেতেই বাকিটা আর বলতে চাইছি না।

সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান –

একজন সাপটিকে রেসকিউ করেছেন আর একজন সাপটিকে ব্যাগার বা বস্তার ভিতর কিংবা অন্যত্র কোনো কিছুর মধ্যে নিরাপদে সাপটিকে ঢুকিয়ে দুরের কোনও জঙ্গলে ছেড়ে দেবেন। এই তো একজন স্নেক রেসকিউয়ারের কাজ। কিন্তু সাপ উদ্ধারের ভিডিওতে কি দেখলাম – সাপটিকে ধরা হলো কিন্তু নিরাপদে বস্তা বন্দি না করে চারিদিকে প্রচুর জনাসমাগম থাকা সত্ত্বেও একজন গোখরোর ল্যাজ ধরে আছেন সাপটি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে চুপচাপ কিন্তু আমাদের ভালো লাগছে না তা দেখে। কি করলাম একটু হিরোগিরি দেখাতে হবে তাই সাপের শরীরে ডান হাত দিয়ে আঘাত করে সাপটকে খেপিয়ে উত্তেজিত করে সাপুড়িয়ার কায়দায় ডান পা দোলানোর প্রতিদান স্বরুপ, উত্তেজিত গোখরো মহুত্বের মধ্যে মুখটা ছুঁড়ে ছেলেটির হাটুর কাছাকাছি প্যান্টের উপর দিয়ে কামড়ে ধরে রইলো তা বেশ খানিকক্ষণ। ভাবুন একজন সাপের ল্যাজ ধরে আছে তার কোনও ধারণা নেই বিষধর গোখরো যে কোনও মুহূর্তে কাছাকাছি কোনও মানুষকে সাপটির নাগালের মধ্যে পেলে মুখ ছুঁড়ে কামড়ে দিতে পারে। কামড়ানোর পরও ভিডিওটিতে এদের চালচলন দেখে মনে হচ্ছিল যেনো হেলে সাপের কামড় খেয়েছেন। গোখরো মারণমাত্রার বিষ ১৫ মিলিগ্রাম কিন্তু এক্ষেত্রে কত পরিমান বিষ ছেলেটির শরীরের রক্তে গোখরো সাপটি ঢেলেছে তা গোখরো সাপটিই জানে। শুধু একটি তথ্য জেনে রাখুন একটি গোখরো সাধারণত কাউকে কামড়ালে এবং মারণ মাত্রার বিষ প্রয়োগ ঘটলে তিন থেকে চার ঘন্টার মতো সময় লাগে সারা শরীরে আস্তে আস্তে সেই নিউরোটক্সিন বিষ রক্তের মাধ্যমে ছড়াতে। বঙ্কিম নামে এই ছেলেটির যা বিবরণ আমাদের গ্রুপের সদস্যদের কাছ থেকে শুনলাম তাতে জানা গেলো সোয়া এক ঘন্টার মধ্যেই ছেলেটির ভালো রকমের সারা শরীরে নিউরোটক্সিন বিষের উপসর্গ ও লক্ষণ শুরু হয়ে গিয়েছিলো। মালদহের আড়িয়াডাঙ্গা বি,পি,এইচ,সি হাসপাতালে যেতে যেতেই দু’ চোখের পাতা বুজে আসা, সামনের দিকে ঢুলে পড়া এবং সাথে কথা বলতে ঠিক মতো না পারা এসব উপসর্গ ভালো মতোই শুরু হয়ে গিয়েছিলো বঙ্কিমের। এই ঘটনাটির থেকে অন্তত সাপ কামড়ের চিকিৎসা বিষয়ে যাদের সামান্যতম একটু ধারণা আছে তিনি জানবেন বঙ্কিমের রক্তে কতটা পরিমানে গোখরোর নিউরোটক্সিন বিষ রক্তে মিশেছিলো। আমার ধারণা মারণমাত্রার থেকেও অধিক বিষ গোখরো সাপটি ঢেলে ছিলো। এর কারন সাপটি আটকে পড়ার কারণে প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়েই এই অধিক বিষ প্রয়োগ।

শেষের কিছু কথা-

যে চলে গেলেন তিনি তো আর ফিরবেন না কিন্তু পরবর্তী সময়ে সাপ রেসকিউ বন্ধুদের মনে যে ভীত, ভয়, সংশয় জমা হয়ে রইলো তা দূর হতে কত সময় লাগবে তা আমার জানা নেই। ওরা দুজনেই মালদহর বাসিন্দা। মালদহ হাসপাতালে সাপ কামড়ের চিকিৎসা বিষয় নিয়ে ওদের কি ধারণা আছে আমি জানিনা। অনেকবার বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লিখে জানিয়েও ছিলাম। সাপ কামড়ের চিকিৎসার ক্ষেত্রে মালদহ হাসপাতাল গুলোতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ভিষণ অভাব। কালাচ কামড়ের রোগীকে গলা ব্যথা ঢোক গিলতে কষ্ট হচ্ছে দেখে কাশির সিরাপ কিনে আনতে বলেছিলেন রোগীর পরিবারকে। সেই চিকিৎকের জানা নেই কালাচের বিষের লক্ষণ গুলো কি হতে পারে। সেই যুবক ছেলেটিও মারা যায় সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছেও। আমাদের বুঝতে হবে সব হাসপাতালে কিন্তু ডা.সমর রায়,ডা.অপর্ণা ভট্টাচার্য, ডা.রণজিৎ দে, ডা. শেখ রাজিব সহ আরও বেশ কিছু চিকিৎসক যাদের নাম এই মুহুর্তে আমার মনে পড়ছে না তাদের মতো কিন্তু ডাক্তাররা নেই। আমি বারংবার বহুদিন ধরে বলে আসছি অকারণে চিকিৎসকদের দোষারোপ না করে যারা যারা সাপের বিষয় নিয়ে এলাকায় কাজ করছেন তারা লোকাল হাসপাতালের চিকিৎসক বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন। সুপারের কাছে গিয়ে বলুন এবং বলতে হবে আমরা এই বিষয় নিয়ে কাজ করছি। সাপ কামড়ের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চিকিৎসকদের দিয়ে টেনিং এর ব্যবস্থা করার কথা বলুন। এও বলুন আমরা দীর্ঘদিন ধরে সাপ নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার সুবাদে বলছি সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পরিমান এ,ভি,এস দিলে অনত্র রেফার করতে হবে না। বলুন পেসেন্টের বাড়ির লোকজনদের আমরা দায়িত্ব নেবো বোঝানোর, চিকিৎসকদের আশ্বাস দিন তাদের উপর কেউ চড়াও হবে না। এভাবে বলুন নিশ্চই শুনবেন তিনি যদি মানবিক হন। আমরা তো অশোকনগরে পেরেছিলাম নিশ্চই আপনারাও পারবেন। বর্তমানে অশোকনগর কোভিড হওয়ায় দু’বছর ধরে আমার এই প্রচেষ্টা আপাতত বন্ধ। হাবরাতে চেষ্টায় আছি এখনও সফলতা পাইনি। এটা আমার ব্যর্থতা। ডা,দয়ালবন্ধু মজুমদারকে জানান তিনিও অনেক বছর ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের টেনিং করাচ্ছেন। এছাড়াও সাপ কামড়ের রোগিরা যে যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন সেই কেস হিস্ট্রি গুলো লোকাল চিকিৎসক বন্ধুদের বলুন। মনে রাখতে হবে আমাকে আপনাকে কাউকে সাপে কামড়ালে তার চিকিৎসা কিন্তু চিকিৎসকদেরই করতে হবে। যদি আমরা এই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকি তবে এই দুঃখজনক ঘটনা দেখাই কিন্তু স্বাভাবিক। যতটুকু খোঁজ নিয়ে জেনেছি তাতে বঙ্কিমের ক্ষেত্রে কিন্তু মালদহ বি, পি, এইচ,সি হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক তার সাধ্যের মধ্যে যা করার তাই করেছেন। নিওস্টিগমিন দিয়েছিলেন কিনা জানিনা। সত্যিই কথা বলতে আমাদের দেশে সাপের কামড়ের মৃত্যু নিয়ে প্রকৃত তদন্ত কোনও দিনই হয় না। সাপের কামড়ে মৃত্যুর তদন্ত হয়েছে বলে অন্তত আমি জানিনা। প্রথম কয়েকদিন একটু হইচই তারপর নিরবতা পালন।যাইহোক শেষে আমাদের সমস্ত রেসকিউ সর্প বন্ধুদের কাছে আমার বিনীত প্রশ্ন আমরা এর আগের বেশ কিছু স্নেক রেসকিউয়ারের সাপের কামড়ের মৃত্যু দেখেও কেনো শিক্ষা নেইনি, এরকম কেনো ? প্লিজ সবাই একটু ভাবুন।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *