মুখ্যমন্ত্রীর “সম্প্রীতি”র বন্ধনে বজবজ মহেশতলার কয়েক লক্ষ মানুষ, উদ্বোধন করলেন নিজেই

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: দুরত্ব প্রায় সাত কিলোমিটার। বজবজ ট্রাঙ্ক রোড ধরে গেলে গাড়িতে লাগে ঘণ্টাখানেক। সেই রাস্তা বরাবরই তৈরি হয়েছে রাজ্যের দীর্ঘতম উড়লপুল। তারাতলার জিঞ্জিরাবাজার থেকে বাটা মোড়ে পৌঁছনো যাবে মিনিট দশেকেই। আজ, শুক্রবার উদ্বোধন হতে চলেছে এই ‘সম্প্রীতি উড়ালপুলে’র। উপকৃত হবেন গঙ্গাসাগরগামী মানুষও। এতদিন সাড়ে চার কিলোমিটারের ‘মা’ উড়ালপুলটিই ছিল রাজ্যের দীর্ঘতম।

ডায়মন্ড হারবার রোড থেকে তারাতলা রোড হয়ে বাটা, বজবজ যাওয়া বহু দিনই ছিল নরকযন্ত্রণা। বজবজ ট্রাঙ্ক রোড শুধু যে খানা-খন্দে ভরা, তাই-ই নয়, ভারী গাড়ি চলাচলের কারণে গোটা এলাকাই থাকে ধুলোয় ঢাকা। নতুন উড়ালপুলের নির্মাণকাজের জন্যও দুর্ভোগ বেড়েছিল। এখন উড়ালপুল তৈরি হয়ে যাওয়ার পর নীচের বজবজ ট্রাঙ্ক রোডটিও মেরামত করা হবে বলে কেএমডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে। বদলে যাবে এলাকার ছবিটাই।

কামালগাজি থেকে গোবিন্দপুর পর্যন্ত ইএম বাইপাসের সম্প্রসারণে আমূল বদলেছে কামালগাজি, নরেন্দ্রপুর, রাজপুর, বারুইপুরের মতো এলাকা। দু’ধারে গড়ে উঠছে অসংখ্য বড় আবাসন। সম্প্রীতি উড়ালপুল চালু হলেও বজবজ, বাটা, মহেশতলা, পুজালির মতো পুর-শহর বদলে যাবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এই সব পুর-এলাকার অন্তত ১০ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী তথা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার মানস ঘোষাল বলেন, ‘জিঞ্জিরাবাজার থেকে সোজা বাটা মোড় যুক্ত করার কারণে এই উড়ালপুলের মাধ্যমে মধ্যবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সরাসরি লাভ হয়তো হবে না। তবে বজবজ ট্রাঙ্ক রোডে যানবাহনের চাপ কমবে। আর সরকারি প্রতিশ্রুতি মতো নীচের রাস্তাটিও যদি মেরামত করা হয়, তার সুফল পাবেন এলাকার মানুষ।’ তারাতলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট, বজবজে সিইএসসির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোলিয়াম সংস্থার ডিপোরও সুবিধা হবে।

ইতিমধ্যেই বাটা, মহেশতলার মতো এলাকায় গড়ে উঠেছে বাটানগর রিভারসাইড টাউনশিপ, ইডেন সিটি, গ্রিন ফিল্ড সিটির মতো বড় আবাসন। নতুন উড়ালপুল ধরে কলকাতা থেকে বাটানগর পৌঁছনোর সময় অনেকটাই কমে যাবে। ফলে আরও আবাসন গড়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে। মহেশতলার বিধায়ক তথা পুরপ্রধান দুলাল দাস বলেন, ‘এই উড়ালপুল ব্যবহার করে অনেক কম সময়ে বজবজ, বাটা, পুজালি, মহেশতলা, সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুরে পৌঁছনো যাবে।’ সরকারের অনুমান, ২০২০ নাগাদ ওই রুটে দিনে ৫০ হাজারের বেশি গাড়ি চলবে। ২০২৫ নাগাদ ৬৪ হাজার।

তবে ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ডায়মন্ড হারবার রোড থেকে তারাতলা রোড হয়েই এখন যাতায়াত করে যানবাহন। জিঞ্জিরাবাজারের আগে হাইড রোড এবং নিউ তারাতলা রোডেও রয়েছে গাড়ির চাপ। ফলে বজবজ ট্রাঙ্ক রোড এবং সম্প্রীতি উড়ালপুলে দ্বিমুখী যান চলাচল ছাড়াও হাইড রোড এবং নিউ তারাতলা রোডে যান চলাচল মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করা দরকার বলে মত বিশেষজ্ঞদের। না-হলে তারাতলা এলাকায় যানজটের আশঙ্কা। যার প্রভাব পড়তে পারে ডায়মন্ড হারবার রোডেও। নয়া উড়ালপুলে ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্টের নিখুঁত পরিকল্পনা করা গেলে মোমিনপুর, খিদিরপুর, আলিপুর, বেহালার বাসিন্দারাও পরোক্ষে উপকৃত হবেন।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *