অনলাইন প্রতারণার শিকার স্কুল শিক্ষক

সুজিত দাস, অশোকনগর: ডিজিটাল লাইফ জীবনকে যেমন অনেক সহজ করে তুলেছে তেমনই এর ভুল প্রয়োগ যে কতবড় সর্বনাশা হতে পারে তার উদাহরণ বারবার পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে আমারা অনেকেই বিভিন্ন ‘মোবাইল অ্যাপস’ ব্যবহার করি। আর এমনই অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন দ্বারা প্রতারণার শিকার হলেন এক স্কুল শিক্ষক। অশোকনগরের কাঁকপুল এলাকায় বাড়ি সমর চক্রবর্তী অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হলেন। খোয়া গেল প্রায় ২৬ হাজার টাকা। সমরবাবু কল্যাণগড়ের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষার শিক্ষক।

ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার রাতে, সমরবাবু তাঁর মোবাইল ফোনে “ইজ়ি ডিল” নামে একটি অনলাইন অ্যাপ ডাউনলোড করেন “গুগল প্লে স্টোর” থেকে। সেই অ্যাপের মাধ্যমে তিনি একটি জেবিএল সাউন্ড স্পিকার ওর্ডার করেন। যার মূল্য ধার্য্য করা ছিল ১৪৪৯টাকা। সেখানে বলা ছিল যদি আগে সেই টাকা পেমেন্ট করা হয় তবে ধার্য্য মূল্যের ওপর ২০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। সেই মত সমরবাবু তার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম মারফত টাকা পেমেন্ট করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরেও কোনো টাকা পেমেন্টের কনফার্মেশন মেসেজ না পেয়ে তিনি ঐ সংস্থার কাস্টোমার কেয়ার নম্বরে ফোন করেন। অফিস থেকে সমর বাবুকে জানানো হয় তাঁর ট্রানজাক্সনটি বাতিল হয়েছে তবে টাকা তিনি ফেরত পাবেন। এরজন্য তাকে আবারও প্লে স্টোর থেকে ইজ়ি ডেস্ক নামে একটি অ্যাপ তার মোবাইল ফোনে ইন্সটল করতে বলেন। তিনি তার কথা মতন সেই অ্যাপসটিও ডাউনলোড করেন। এরপর অফিসার তার মোবাইলে ফোন পে অ্যাপস্ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে সমর বাবু হ্যাঁ বলেন।

তখন সেই অফিস থেকে জানানো হয় যে তিনি যদি ফোন পে’র ইউপিআই ট্রানজাক্সন নম্বরটি তার ফোনে ইনপুট করেন তাহলে তিনি তার টাকা ফেরত পাবেন। সমরবাবু সেই কথা মত নম্বরটি পুট করলে টাকা ফেরত তো আসেই না উল্টে ঘন্টাখানেক বাদে দুইবারে ২০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়। সাথে সাথেই তিনি ব্যাঙ্কের কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করে তাঁর কার্ডটি ব্লক করেন।

মিনিট পনেরো বাদে এরপরও সমরবাবুর কাছে ফোন আসে। ফোনে বলা হয়, যে তারা টাকা দিতে ইচ্ছুক কিন্তু কোনো কারনে ক্রেডিট কার্ডে টাকা দিতে পারছেন না। তাই তার ডেবিট কার্ডের সামনের ১১ সংখ্যাটি যেন তাদের দিয়ে তিনি সাহায্য করেন। তাহলেই তিনি তার টাকা ফেরত পাবেন।

সমরবাবু সেই নম্বরটিও তাদের দিয়ে দেবার পর আবারও তার অ্যাকাউন্ট থেকে দুইবারে ৬ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়। তিনি অশোকনগর গোলবাজারে ব্যাঙ্কের শাখায় যোগাযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে উদাসীনতা দেখিয়েছেন। এরপর তিনি অশোকনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

বারংবার ব্যাঙ্ক থেকে সতর্ক করার পরও কেন তিনি এমন করলেন? এই উত্তরে সমর চক্রবর্তী জানান, তিনি ভেবেছিলেন গুগল প্লে স্টোরের এই অ্যাপটি সার্টিফাইড অ্যাপস। এছাড়া তিনি কোনো পিন বা সিভিভি নম্বর দেননি। তারপরও তার অ্যাকাউন্ট কিভাবে হ্যাক হলো তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আবেদন করেন, যে দেশ ডিজিটালাইজড করতে চাইলে আগে যেন তিনি সিকিউরিটির ওপর জোড় দেন।

কি বললেন শিক্ষক সমর চক্রবর্তী, দেখুন ভিডিও:

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *