পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ৭ বছরের জেল

পাকিস্তান: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে দুর্নীতির মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে পাকিস্তানের এক দুর্নীতি বিরোধী আদালত। এই অভিযোগকে ৩ বারের পাক প্রধানমন্ত্রী বলছেন রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত এই রায়।
সূত্রের খবর, সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) সৌদি-আরবে অবস্থিত তার মালিকানাধীন স্টিল মিলের অর্থের উৎস সম্পর্কে শরীফ কোন বৈধ কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি, তাই তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়। সুপ্রিম কোর্ট তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর একই আদালত চলতি বছর জুলাই মাসে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।
লন্ডনের একটি অভিজাত এলাকায় অ্যাপার্ট্মেন্ট ক্রয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক অভিযোগে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছিল। যদিও তিনি সেপ্টেম্বরে আপিল করে জামিনে মুক্ত হয়েছিলেন।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাদে নওয়াজের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাগশিপ ইনভেস্টমেন্ট ও আল আজিজিয়া স্টিল মিল দুর্নীতি মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত নওয়াজ শরিফকে আল আজিজিয়া স্টিল মিল দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ফ্ল্যাগশিপ ইনভেস্টমেন্ট দুর্নীতি মামলায় খালাস করে দেন। এছাড়া দুই মামলায় তাকে ২৫ মিলিয়ন ডলার এবং দেড় মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা করেন আদালত।
‘আল-জাজিরা’র কামাল হায়দার ইসলামাবাদ থেকে জানান, শরীফের দল এই আদালতের এই রায়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আল-আজিজিয়া স্টিল মিলের জন্য আদালত তার ৭ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে, যেখানে তাকে অন্য অভিযোগ হতে মুক্তি দেয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা এমন এক বিষয় যা তার রাজনৈতিক দল খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিতে যাচ্ছে। তবে, এটাও মনে রাখা উচিৎ যে নওয়াজ শরীফ কিছুদিন আগেই অ্যাভেনফিল্ড সম্পদের মামলায় আটক হয়েছিল, তাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। তিনি একটি আপিল করে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন তখন।’
চলতি বছরের জুনে লন্ডন যাওয়ার পর থেকে নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানের রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন। এরপর ৬ জুলাই দুর্নীতির মামলায় তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়াও মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে ৭ বছরের ও জামাতা সফদরকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই বছর ১৩ জুলাই লন্ডনে বসবাসরত নওয়াজ ও তার মেয়ে কুলসুম পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু নওয়াজ ও মরিয়ম পাকিস্তানে আসলে বিমানবন্দরেই তাদেরকে গ্রেফতার করে লাহোরের আদিয়ালা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
এরপর ১১ সেপ্টেম্বর নওয়াজ শরিফের স্ত্রী কুলসুম নওয়াজ ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে মারা যান। ওই রাতেই নওয়াজের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। ১২ সেপ্টেম্বর প্যারোলে মুক্তির মেয়াদ আরো পাঁচদিন বৃদ্ধি করা হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর নওয়াজ শরিফ তার মেয়ে মরিয়ম ও জামাতা সফদরকে জামিনে মুক্তি দেন আদালত।
ত বছর পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে নওয়াজ ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে সম্পদের উৎস জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালতের রায়ে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষিত হন নওয়াজ। আদালতের এমন রায়ের পর নওয়াজ শরিফ পদত্যাগ করেন। উল্লেখ্য নওয়াজ ৩ বার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসলেও কোনো বারই পূর্ণ সময় অতিবাহিত করতে পারেন নি।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *