2050: তলিয়ে যেতে পারে হাবরা-অশোকনগরের প্বার্শবর্তী বহু গ্রাম, নিস্তার নেই কলকাতার! সতর্ক করল NASA-ও

বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সমস্যাটির নাম করোনা। কিন্তু এর থেকেও চিন্তার কারণ রয়ে গিয়েছে অপর একটি সমস্যা নিয়ে, যা একপ্রকার নিঃশব্দ ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে সমগ্র বিশ্বের কাছে। তা  জলবায়ু পরিবর্তন । একদিকে যেমন বর্ষারেখা বদলের জন্য খরার প্রকোপ বাড়ছে বিশ্ব মানচিত্রজুড়ে, তেমনই ভারত, চিন, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় বিধ্বস্ত হচ্ছে। তবে এখানেই শেষ নয়। আরও বড়ো বিপদ অপেক্ষা করে আছে আগামীতে।এবার সে ব্যাপারেই সতর্ক করল নিউ জার্সি’র ক্লাইমেট সেন্ট্রাল।

এই সংস্থার প্রকাশিত সাম্প্রতিক রিপোর্ট জানাচ্ছে, সমুদ্রের জলতল বাড়ার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণ জলের তলায় তলিয়ে যেতে পারে বিশ্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর। আর্কটিক অঞ্চল তো বটেই, বিগত কয়েক বছরে অস্বাভাবিক হারেই বরফ গলছে গ্রিনল্যান্ডের। সম্পূর্ণভাবে মুছে গেছে একাধিক হিমবাহের অস্তিত্ব। আর তার ফলেই ক্রমশ দ্রুত গতিতে বাড়ছে সমুদ্রের জলতল। কিন্তু এর দরুন পৃথিবীর মানচিত্রে কোন কোন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হবে— সে ব্যাপারে সর্বপ্রথম বিস্তারিত তথ্য দিল ক্লাইমেট সেন্ট্রালের সাম্প্রতিক গবেষণা। মূলত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সিমুলেশনের মাধ্যমেই সাম্প্রতিক এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মার্কিন সংস্থাটি। বেশ কয়েক বছরের চেষ্টায় ক্লাইমেট সেন্ট্রালের গবেষকরা ‘কোস্টাল রিস্ক স্ক্রিনিং টুল’ নামক বিশেষ এআই সফটওয়্যারটি তৈরি করেন। এই সফটওয়্যার সিমুলেশনের মাধ্যমেই ধরা পড়েছে জলতল বৃদ্ধির কারণে পৃথিবীর পরিবর্তিত মানচিত্র।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, ৫০ সেন্টিমিটার জলতল বৃদ্ধি হলেই পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র-তীরবর্তী শহরগুলি প্লাবিত হবে। এমনকি বিস্তীর্ণ অঞ্চল সর্বক্ষণ জলমগ্ন হয়ে পড়ার কারণে আর বসবাসযোগ্যও থাকবে না মানুষের জন্য। ২০৫০ সালের মধ্যে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে চলেছে এই পরিস্থিতি। আর সেখান থেকে বাদ থাকছে না ভারতও।


পশ্চিমের গুজরাট থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্র, গোয়া, কেরল, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সমুদ্র এগিয়ে আসতে পারে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত। সম্পূর্ণভাবে জলের তলায় তলিয়ে যাবে ভারতের বাণিজ্যনগরী মুম্বাইয়ের ৬৫ শতাংশ অঞ্চল।

তবে জলতল বৃদ্ধির জন্য সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলা। প্লাবিত হবে দীঘা, মন্দারমনি, কোন্টাই, তমলুক, জয়নগর ইত্যাদি অঞ্চল। একেবারে সমুদ্র উপকূলবর্তী না হলেও গাঙ্গেয় উপত্যকার দক্ষিণে অবস্থিত হওয়ার রেহাই পাবে না কলকাতাও। স্থায়ীভাবে জলে নিমজ্জিত হয়ে যেতে পারে বরানগর, নিউটাউন এর মতো অঞ্চলগুলি। সেইসঙ্গে বর্ষাকালে বন্যার প্রকোপও বাড়বে ফি বছর।

সফটওয়্যারের দাবি মত, ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলার সবচেয়ে জনবহুল জেলা উত্তর ২৪ পরগণার সম্পূর্ণ বসিরহাট মহকুমা সহ অধিকাংশ এলাকাই জলের তলায় চলে যেতে চলেছে। বনগাঁ, বারাসাত সহ হাবরা অশোকনগরের পার্শ্ববর্তী বহু গ্রাম চলে যাবে জলের তলায়‌। ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পতালুক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে অশোকনগরের বাইগাছি অঞ্চল। সেই অঞ্চলটিরও সলিল সমাধি হতে চলেছে বলে আশঙ্কা। তবে ব্যারাকপুর মহাকুমার অনেকাংশই রেহাই পাবে বলে আশা করা যায়।

এর পাশাপাশি সম্প্রতি ভারতকে বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কার সতর্কবার্তা দিয়েছে নাসা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে যে, এই শতকের শেষে দেশের মুম্বই, চেন্নাই, কোচি এবং বিশাখাপত্তনম-সহ ১২ উপকূলীয় শহর তিন ফুট জলের তলায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্ব জুড়ে সমুদ্রের জলস্তরের কী পরিবর্তন হচ্ছে তা নিয়ে ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)-র রিপোর্টকে ব্যাখ্যা করেছে নাসা। দেশের ১২টি এমন শহরকে চিহ্নিত করেছে নাসা যেখানে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন এবং সমুদ্রের জলস্তর বাড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

১৯৮৮ সাল থেকে প্রতি ৫-৭ বছর অন্তর পৃথিবীর আবহাওয়া সংক্রান্ত কী কী পরিবর্তন ঘটছেতার উপর নজরদারি চালায় এই সংস্থা। বিশেষ করে উষ্ণতার পরিবর্তন, বরফের আচ্ছাদন, গ্রিনহাউস গ্যাস এবং সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির মতো বিষযগুলির উপর। উপগ্রহ চিত্র এবং নানা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে সমুদ্রের জলস্তর সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে আইপিসিসি।

কোন শহরে বিপদ বেশি (জলস্তর কতটা বাড়তে পারে)
• কান্ডলা- ১.৮৭ ফুট
• ওখা-১.৯৬ ফুট
• ভাবনগর-২.৭০ ফুট
• মুম্বই-১.৯০ ফুট
• মার্মাগাঁও-২.০৬ ফুট
• ম্যাঙ্গালুরু-১.৮৭ ফুট
• কোচিন-২.৩২ ফুট
• পারাদ্বীপ-১.৯৩ ফুট
খিদিরপুর-০.৪৯ ফুট
• বিশাখাপত্তনম-১.৭৭ ফুট
• চেন্নাই-১.৮৭ ফুট
• তুতিকোরিন-১.৯ ফুট

আইপিসিসি-র রিপোর্ট বলছে, গোটা বিশ্বে সমুদ্রের জলস্তরের গড় বৃদ্ধির তুলনায় এশিয়া মহাদেশে সমুদ্রের জলস্তর দ্রুত হারে বাড়ছে। আগে যেখানে ১০০ বছরে জলস্তরের যে পরিবর্তন দেখা যেত, সেখানে ২০৫০-এর মধ্যে প্রতি ৬-৯ বছরের মধ্যে এক বার সেই পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, একবিংশ শতাব্দী জুড়ে সমুদ্রের জলস্তর বাড়বে উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে। ফলে উপকূলবর্তী নিচু এলাকাগুলি ঘন ঘন প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে। শুধু তাই নয়, জলস্তর বৃদ্ধির ফলে উপকূল অঞ্চলগুলি ভাঙনের শিকার হবে।

আবহাওয়ার পরিবর্তন আঞ্চলিক ভাবেও নানা পরিবর্তন ঘটাতে পারে। কোথাও বৃষ্টি বেশি হতে পারে, কোনও অঞ্চলে আবার খরার প্রকোপ দেখা দিতে পারে, কোথাও আবার তুষারপাতের মাত্রা বাড়তে পারে। এমন নানা পরিবর্তন লক্ষ করা যেতে পারে। ২০০৬-১৮ সালের মধ্যে সমুদ্রের জলস্তর নিয়ে যে সমীক্ষা করা হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে, গোটা বিশ্বে প্রতি বছর জলস্তরের গড় বৃদ্ধি হয়েছে ৩.৭ মিলিমিটার।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *