কাশফুলের নতুন ঠিকানা

মাটির ছোঁয়ায় ভাবনারা মেলছে ডানা

অশোক মজুমদার।

আমার একটা আইডিয়া আছে। এইযে কাশফুল হয় বাংলায়, পূজোর একমাস আগে থেকে শুরু হয়, আর থাকে একমাস। তারপর উড়ে চলে যায়। কোনো কাজে লাগে না। এইটা দিয়ে বালিশ এবং বালাপোষ তৈরি হতে পারে দারুন ভালো। টেকনিক্যালি ও কেমিক্যালি কিকরে কি করতে হবে তা এক্সপার্টরা ভালো বলতে পারবেন। এটা তো মনেহয় অনেক দামে বিক্রি হবে। যাদের ক্ষমতা আছে তারা কিনতে পারবে। সুতরাং এটা কিভাবে কাজে লাগানো যায় দেখো।”…..মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।।

হাওড়ার প্রশাসনিক মিটিংয়ে দিদির এই আইডিয়া শুনে আমি ভাবছিলাম কবির কবিতা আর ফটোশ্যুট ছাড়া এই কাশফুলকেও যে এভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে তা কল্পনাতেও আসেনি কারো কোনোদিন। সত্যিই তো শরতকালে কাশফুলে গ্রাম বাংলার নদীর চর, মাঠ ভরে ওঠে। কিন্তু এই ফুল তেমন কোনো কাজে ব্যবহার করা হয় না। একটু শীত পড়তেই নষ্ট হয়ে যায় সব ফুল। অথচ তুলোর থেকেও নরম ফুলগুলো থেকে তো কুশন, বালিশ, বালাপোষ হতেই পারে। বাড়ি ফিরে আমার পরিচিত এই ধরণের রিসার্চের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে ফোন করে প্রসঙ্গটি বললাম। ওরা বালিশ, বালাপোষ ছাড়া মিথেনও তৈরি হতে পারে বললেন। আমি অবাক।

সমাজকে বদলানোর ডাক সব রাজনীতিবিদরাই দেন। কিন্তু তাদের বেশিরভাগজনই কাজের ক্ষেত্রে সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়ে যান। দিদি ঠিক এই জায়গাতেই ব্যতিক্রম। আমি শুধু ভাবি এই মানুষটির সঙ্গে কতটা মাটির সংযোগ থাকলে এরকম ভাবনা মাথায় আসতে পারে ? আর এই সাধারণ ছোটো ছোটো জিনিস নিয়ে ভাবনাগুলোই সামাজিক ক্ষেত্রে বারবার ওনার দূরদর্শিতার প্রমাণ করেছে। কুর্নিশ করেছে দেশ, এমনকি বিশ্বও। অথচ এসব সহজ সরল ভাবনার জন্যই ওনাকে কত না সমালোচনা করা হয়। হাসাহাসি করা হয়। কিন্তু দিনের শেষে সব সমালোচনার জবাব উনি দিয়ে দেন সফলতার সঙ্গে কাজগুলি সম্পন্ন করে। অকারণ এই হেয় করার কারণেই অবশ্য আজ বাংলা প্রায় বিরোধীশূন্য।

এভাবেই দিদির হাত ধরে এগিয়ে চলুক আমার বাংলা। মানুষ ভালো থাকুক।

অশোক মজুমদার।।
১৮.১১.২০২১

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *