সর্বনাশা নেশা

ক্লাস নাইন বা ক্লাস টেন, স্কুল বাইন্ডারি এখনো পেরোতে পারেনি, কিন্তু জীবনের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে সুরার জগতে খুব সহজেই পা রেখেছে এনারা। না সবার কথা বলছি না, আসলে এই সুবিশাল অত্যাধুনিক সমাজের আনাচে কানাচে রয়েছে নেশার হস্তক্ষেপ । যুবক থেকে প্রৌঢ় এই নেশার জগতে কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই কিন্তু জানি যে ধূমপান, মদ্যপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, লিভার, কিডনি ড্যামেজ করে দেয়, এমনকি ক্যানসারেরও কারন হয়ে উঠতে পারে, তবুও সব জেনে স্বানন্দে গ্রহন করি এই মারনাস্ত্র।

ধূমপানের কুফলঃ-

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ধূমপান হলো বিষপান। এটা মূলত জেনে শুনে বিষপান করা। ধূমপানের ফলে মানুষ যে ধোঁয়া তার ফুসফুসের মধ্যে টেনে নেয় তাতে থাকে নিকোটিন। এটি কিছু সময়ের জন্য মানুষের মস্তিষ্ককে হয়তো চঞ্চল করে তোলে কিন্তু শরীরের জন্য রেখে যায় দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি। ধূমপানের ফলে মানুষ তৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুবরণ করে না। কিন্তু এর নিকোটিন মিশ্রিত ধোঁয়া ধীরে ধীরে ফুসফুসকে গ্রাস করে, অকেজো করে দেয়। ফলে মানুষ ফুসফুস ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। কাশি, হাঁপানি, বক্ষব্যাধির মতো রোগগুলোকে ধূমপান কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। শুধুমাত্র ফুসফুসের ক্যান্সারই নয় কখনো কখনো ধূমপান মুখের ক্যান্সার, খাদ্যনালীর ক্যান্সার, মুত্রথলীর ক্যান্সার, অগ্নাশয়ের ক্যান্সারের মতো জীবননাশী রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য ধূমপান মারাত্মক বিপদ ডেকে আনে। প্রতিবছর পৃথিবীতে প্রায় লক্ষাধিক লোক হৃদযন্ত্রের রক্তনালীর সমস্যাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করে। যার জন্য দায়ী হলো ধূমপান। ধূমপান শরীরের অন্যান্য রোগকে আরো জটিল করে তোলে। ধূমপায়ী গর্ভবতী নারীদের সন্তানের জন্মের আগেই নানা রকম ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

মদ্যপানের কুফলঃ-

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যারা পরিমিত পরিমাণে মদ্যপান করে তাদের তুলনায় যারা অতিরিক্ত পরিমানে মদ্যপান করে তাদের হার্টের অসুখে মৃত্যু বরণ করার প্রবণতা বেশি থাকে।
৪৫ বছরের পরে মদ্যপান হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী হতে পারে; তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই পরিমাণমত পান করা জরুরী। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে সামান্য পরিমাণ অ্যালকোহল গ্রহণ করলে বিভিন্ন হৃদরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। যদিও বিজ্ঞানীরা এর সঠিক কারণ দেখাতে পারেন নি। তারা ধারণা করেন যে পরিমিত মদ্যপান দুই ভাবে হৃতপিণ্ডের উপকার করে থাকে। (১) আর্টেরির ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করে, (২) হৃদপিণ্ডে রক্ত জমাট বাধা রোধ করে। তাই বলে হৃদরোগ থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে নিয়মিত মদ্যপান করা বেছে নেওয়া কখনোই কাম্য নয়।

গাজার কুফলঃ-

এটি রক্তবাহী শিরা ধ্বংস করে,
টেস্টিকুলার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়,
স্বল্পমেয়াদে স্মৃতিশক্তি লোপ,
সৃজনশীলতা নষ্ট করে,
মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংস করে। গাঁজা মস্তিষ্কের ওপর স্থায়ী প্রভাব ফেলে মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংস করে। এ কারণে তা মানুষকে অস্বাভাবিক করে দেয়। দীর্ঘ ২০ বছরের গবেষণায় এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন গবেষকরা।
জাগো সমাজ জাগো। জীবনটা খুবই ছোটো, জীবনে অনেক কাজ করার আছে, নেশাতে অতিবাহিত করে জীবনটা বিসর্জন দিলে জন্মটাই তো বৃথা। তাই যতটা সম্ভব নিজেদেরকে কর্মে নিমজ্জিত রাখাটাই শ্রেয়।

অন্তরা নাগ

প্রতিবেদক

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *