সেচ্ছাসেবী সংস্থা হয়ে একাধিক সেচ্ছাসেবী সংস্থাকে সংবর্ধনা, দৃষ্টান্ত স্থাপন করল অশোকনগর SNF

১৫ই আগষ্ট : রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন ‘রাজা সবারে দেন মান, সে মান আপনি ফিরে পান’ অর্থাৎ সন্মান দিলে আপনি সন্মান নিজেই ফিরে পাবেন। আর এই কথারই সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগণা জেলার অশোকনগর। ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল অশোকনগরের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন।

বেশিরভাগ স্থানেই দেখা যায় স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে এক প্রতিযোগিতা মূলক মনোভাব। কখনো কখনো তা এতটাই প্রকোট হয়ে পরে যে দুটি সংঠনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু অশোকনগর সিস্টার নিবেদিতা ফলোয়ার্স এদিকে অন্যন্য নজির সৃষ্টি করল। নিজেরা একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন হয়ে স্থানীয় অন্যান্য সকল সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সংবর্ধিত করল এই সংগঠন। এদিন সন্ধ্যায় অশোকনগর শহীদ সদন মঞ্চে স্থানীয় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করল তাঁরা।

অশোকনগর সিস্টার নিবেদিতা ফলোয়ার্স এর পথ চলা শুরু ২০১৭ সালে। সেই বছর হাওড়া উদনারায়ণপুরে বন্যা বিদ্ধস্ত হরালি গ্রামে ত্রাণ বিলি করে সংগঠনের কাজ শুরু হয়। তারপর প্রতিবছর বস্ত্রদান, শীতবস্ত্র বিতরণ সহ নানান কর্মসূচি নিতে থাকেন তাঁরা। এরপর সাড়া বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর প্রকোপের ধাক্কা, আঁচ এসে পরে অশোকনগরেরও। এই কোভিড পরিস্থিতিতে সংস্থার পক্ষ থেকে খোলা হয় কমিউনিটি রান্নাঘর। ১০০ দিন ধরে চলে এই রান্নাঘর, প্রায় প্রতিদিন ১২০ জন মানুষের জন্য খাবার ব্যবস্থা করা হয় এখান থেকে। এর পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত পরিবারের পাশেও দাঁড়ায় এই সংগঠন। করোনা আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ, আক্রান্তের বাড়ি এলাকা স্যানিটাইজেশন করার মতো ধারাবাহিক কাজ করে চলে নিবেদিতা ফলোয়ার্সের সদস্যরা।

২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আছড়ে পরে বাংলায়। সেই সময় দুই দফায় সুন্দরবন এলাকার প্রায় ৮০০ পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেয় এই সংস্থা। সাম্প্রতিক ইয়াস ঘূর্ণিঝড় বিধস্ত মেদিনীপুরের মায়াচর দ্বীপ ও সুন্দরবন মিলিয়ে প্রায় ১৫০০ পরিবারের পাশে দাঁড়ান তাঁরা।

বছর চার বয়সী এই সংগঠন ইতিমধ্যেই পরিচিতি বৃদ্ধি করতে পেরেছে তাঁদের নিজেদের কর্মগুনে। রবিবার সংগঠনের তরফে ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সারাদিন ব্যাপি কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রভাত ফেরী ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি সংস্থার পক্ষ থেকে ৭৫ টি দুঃস্থ শিশুদের হাতে খাদ্যদ্রব্য তুলে দেওয়া হয়। এরপর সন্ধ্যায় এই সেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে অশোকনগরের বুকে কাজ করে চলা অন্যান্য প্রায় সকল সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসেন তাঁরা। যা এককথায় অভিনব। প্রত্যেকটি সংগঠনকে আলাদা আলাদা ভাবে মঞ্চে তুলে সংগঠনের সদস্যদের সন্মানিত করা হয়। এঁরা প্রত্যেকেই মঞ্চ থেকে ভাগ করে নেন নিজেদের কাজের অভিজ্ঞতা। এদিন সংবর্ধিত করা হয় অশোকনগরের রেড ভলান্টিয়ার্সদেরও। উপস্থিত ছিলেন শাসক দলের জনপ্রতিনিধিরাও।

এক সদস্যের কথায়, এর কৃতিত্ব সিস্টার নিবেদিতা ফলোয়ার্সের নয়, এর কৃতিত্ব বর্তায় অশোকনগরের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের প্রবাহমানতার প্রতি। এই শহরের প্রত্যেক সংস্থাই এক ভাবধারায় বিশ্বাসী। একে অপরের পরিপূরক। এক সাথে সকলকে নিয়ে পথ চলার আনন্দই আলাদা। আজ সকলে এসেছেন বলেই এই আয়োজন সফল ভাবে রূপায়িত করা সম্ভব হয়েছে।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *