তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দিলেন যশবন্ত সিনহা

পদ্ম শিবির ছেড়ে জোড়াফুল শিবিরে নাম লেখালেন দেশের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা। কেন্দ্রের অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের অর্থমন্ত্রী যশবন্তের তৃণমূল–যোগ নিয়ে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। শনিবার কালীঘাটে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করার পরে তৃণমূল ভবনে এসে জোড়া ফুল শিবিরে যোগ দিলেন যশবন্ত সিনহা। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের একাধিক রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশে ছিলেন। এমনকী বিজেপিতে থেকেও মোদী–শাহ জুটির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বজায় ছিল। তবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই যোগ বিজেপির ঘুম কেড়ে নিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
মোদী–শাহের বিপরীত শিবিরে যোগ দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই শুরুর ইঙ্গিত দিলেন যশবন্ত সিনহা। শনিবার সাংসদ সুদীপ বন্দোপাধ্যায়, সাংসদ ডেরেক ও’‌ব্রায়েন ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। ৮৩ বছর বয়সি যশবন্ত বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন ২০১৮ সালে। ১৯৮৪ সালে জনতা দলের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়া যশবন্ত বরাবরই গেরুয়া শিবিরের অংশ ছিলেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল। বিজেপি ত্যাগের তিন বছর পর বিশেষ করে বাংলার ভোটের মুখে তাঁর তৃণমূলে যোগ দেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল।
দলে যোগ দিয়েই, দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘‌দেশ এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতিতে মুল্যবোধ বিপর্যস্ত। গণতন্ত্রের যে প্রতিষ্ঠানগুলি একটা স্তম্ভ সেগুলি কমজোরি হয়ে গিয়েছে।’‌ সুব্রতবাবু বলেন, ‘‌যশবন্ত সিনহার মতো প্রবীণ রাজনীতিককে আমাদের সঙ্গে পেয়ে আমরা গর্বিত।’‌ যশবন্ত সিনহা আরও বলেন, ‘‌মোদী সরকার স্বেচ্ছাচার চালাচ্ছে। এদের বাধা দেওয়ার মতো কেউ নেই। দেশের গণতন্ত্র আজ বিপন্ন। এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশ। সমস্ত প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে। গণতন্ত্র বজায় রাখতেই একজোট হওয়া প্রয়োজন।’‌
সাংসদ সুদীপ বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মমতা বন্দোপাধ্যায় সুস্থ থাকলে তিনিই যশবন্ত সিনহার হাতে পতাকা তুলে দিতেন। তবে বাংলার নির্বাচনে তৃণমূলের ফল ভালো হওয়া নিয়ে আশাবাদী তিনি। এদিন তিনি বলেন, ‘‌বাংলার ভোট পর্ব চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস গরিষ্ঠতার সঙ্গে জিতবে এতে কোনও সন্দেহ নেই। বাংলা থেকেই গোটা দেশের কাছে বার্তা পৌছে দেওয়া হোক। মোদী-অমিত শাহ জুটিকে কেউ চাইছে না।’‌
উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালের নভেম্বর মাসে কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী হন যশবন্ত। ১৯৯১ সালের জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী চন্দ্র শেখরের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দ্বিতীয় কার্যকাল ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০২ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীর অধীনে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তখন থেকে ২০০৪ সালের মে পর্যন্ত তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৬০ ব্যাচের প্রাক্তন আইএএস অফিসার যশবন্ত সরকারি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরে ১৯৮৪ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। শুরু করেছিলেন জনতা পার্টি দিয়ে। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *