মঙ্গলবার নয় আজ থেকেই বড় “দিন”

ঠিকই শুনেছেন, মঙ্গলবার নয় আজ থেকেই বড় হচ্ছে দিন। তবে “বড়দিন” ও দিন বড় হবার ব্যাপার দুটো যদিও আলাদা। কি বলতে চাইছি আসুন একটু জেনে নেওয়া যাক্—

বড়দিন বলতে ২৫ ডিসেম্বর’কেই আমরা বুঝে থাকি। কেন ২৫ শে ডিসেম্বর কে “বড়দিন” তার ব্যাখ্যা আলাদা, তবে জ্যোতির্বিজ্ঞান এর মতে আমাদের দেশে তথা উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিনটি কিন্তু ২১ শে জুন

সূর্যের অন্যতম গ্রহ হল পৃথিবী। অন্যান্য গ্রহের মত পৃথিবী একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করে সূর্যের চারদিকে উপবৃত্তাকার পথে ঘুরে করে চলেছে। সূর্যের চারদিকে ঘোরবার জন্য পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট । হিসেবের সুবিধার্থে তাকে আমরা ১ বছর ধরে নেই।

পৃথিবীর এই ঘোরবার পথ উপবৃত্তাকার ( ডিম্বাকার প্রায়) হওয়ায় এবং পৃথিবীর অক্ষ (earth axis) ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে থাকার কারণে পৃথিবী ও পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্য থেকে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করে। ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে সূর্যের আলো ও তাপ সমানভাবে আলোকিত ও উষ্ণ করে না এবং দিন-রাতের সময়ের ব্যবধান এর মধ্যেও পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্বের ব্যবধান এবং ব্যবধানজনিত কয়েকটি বিষয় নীচে তুলে ধরা হল-

যখন দিন রাত সমান

সূর্যের চারদিকে ঘোরার সময় বছরের দুই দিন সূর্য পৃথিবীর ঠিক মাঝ বরাবর নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার উপর লম্বভাবে অবস্থান করে। এই দুটি দিন হল ২১ মার্চ২৩ সেপ্টেম্বর। এ দুই দিন সূর্য পৃথিবীর বিষুবরেখার উপর সোজাসুজি বা লম্বভাবে আলো দেয়। এ দুই দিনকে বিষুব বা মহাবিষুব ( জলবিষুব) (equinox) বলে। ফলে এ দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয়।

বড়-দিন

পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরার সময় ২১ মার্চ-এর বিষুবীয় (equinox) অবস্থা থেকে সূর্যের আলো ধীরে ধীরে উত্তর দিকে সরে যেতে থাকে। এইভাবে সড়তে সড়তে ২১ জুন সূর্য পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তির উপর অবস্থান করে লম্বভাবে কিরণ দেয়। এ সময় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল হয়। ২১ জুন তারিখটি উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে। মানে ২১ শে জুন হল উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে “বড় দিন”।
২১ জুনকে সূর্যের উত্তরায়ণ (summer solstice) বলে। solstice শব্দটি ল্যাটিন শব্দ solstitium থেকে এসেছে। যার অর্থ ‘সূর্য স্থির দাঁড়াল’ (the sun stands still)। সূর্য কিরণ ক্রমে উত্তর দিকে সরে ২১ জুন পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তির উপর স্থির দেখা যায় বলে উত্তরায়ন (summer solstice) নামকরণ করা হয়ে থাকতে পারে।

বড়-রাত

এভাবেই পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরার সময় ২১ জুনের কর্কটক্রান্তির অবস্থান থেকে সূর্য আসতে আসতে দক্ষিণ দিকে সরে যেতে থাকে। ছয় মাস পরে ২১ ডিসেম্বর সূর্য পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধের মকরক্রান্তির উপর অবস্থান করে লম্বভাবে কিরণ দেয়। এই সময় দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও উত্তর গোলার্ধে শীতকাল এবং ২১ শে ডিসেম্বর এর রাত দীর্ঘ রাত ও ক্ষুদ্রতম দিন বিরাজ করে। ২১ ডিসেম্বরকে সূর্যের দক্ষিণায়ন (winter solstice) বলে।


২১ ডিসেম্বরের পর থেকে সূর্য কিরণ আবার ক্রমে উত্তর দিকে সরে যেতে থাকে। solstice শব্দ ল্যাটিন শব্দ solstitium থেকে এসেছে। যার অর্থ ‘সূর্য স্থির দাঁড়াল’ (the sun stands still)। সূর্য কিরণ ক্রমে দক্ষিণ দিকে সরে ২২ ডিসেম্বর পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধের মকরক্রান্তির উপর স্থির দেখা যায় বলে দক্ষিণায়ন (winter solstice) নামকরণ করা হয়ে থাকতে পারে।

এই সময় দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও উত্তর গোলার্ধে শীতকাল এবং ২১ শে ডিসেম্বর এর রাত দীর্ঘ রাত ও ক্ষুদ্রতম দিন বিরাজ করে। ২১ ডিসেম্বরকে সূর্যের দক্ষিণায়ন (winter solstice) বলে।
২১ ডিসেম্বরের পর থেকে সূর্য কিরণ আবার ক্রমে উত্তর দিকে সরে যেতে থাকে।

হিসেব মত এবছরের গতকালের রাতটি ছিল এবছরের দীর্ঘতম রাত্রি। আর আজকের পর থেকেই বাড়বে দিনের আলোর পরিমাণ। অর্থাৎ বড় হবে “দিন”।

শুভদীপ দাস

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *