“মাছ যেমন জল ছাড়া বাঁচতে পারে না, তেমন আমিও আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না”: সোনালি

একুশের নির্বাচনের টিকিট বণ্টনের পরই তৃণমূল ছেড়েছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার সোনালি গুহ। তবে ভুল বুঝতে পেরে ফের তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘স্নেহতলে থাকার’ ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন।

শনিবার তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে টুইট করেছেন তিনি। ‘বিজেপিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলাম না। আরও অনেক দলত্যাগী ফিরে আসবেন’ বলেও জানিয়েছেন সাতগাছিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে ভেঙে পড়েছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক এবং রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার সোনালি। বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নাম লেখান গেরুয়া শিবিরে। তবে বিজেপিতে গিয়েও প্রার্থী হতে পারেননি। এবার ভোটপর্ব সমাপ্ত হয়ে যাওয়ার পর ফের তৃণমূলে ফেরার কথা টুইটারে জানালেন সোনালি। টুইটে তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশ্যে সোনালি লেখেন, ‘অত্যন্ত ভগ্ন হৃদয়ে বলছি যে, আমি আবেগপূর্ণ হয়ে চরম অভিমানে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দলে গিয়েছিলাম। যেটা ছিল আমার চরম ভুল সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেখানে আমি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি। মাছ যেমন জল ছাড়া বাঁচতে পারে না, তেমন আমিও আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। দিদি আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থী। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি ক্ষমা না করলে আমি বাঁচব না। আপনার আঁচলের তলে আমাকে টেনে নিন, বাকি জীবনাটা আপনার স্নেহতলে থাকার সুযোগ করে দিন।’‌

মমতার রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘদিনের সৈনিক সোনালি। মমতার ছায়াসঙ্গী হিসেবেই বঙ্গ রাজনীতিতে পরিচিত তিনি। বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পাওয়া এবং তাঁর দলবদল ঘিরে জোর চর্চা হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতারা তাঁকে এড়িয়ে চলছিলেন। তাঁকে কোনও কর্মসূচিতে ডাকা হোত না। তিনি জানান, বিজেপিতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করে ভুল করেছিলেন। সোনালি গুহর এই টুইট ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।

টিকিট না পেয়ে সোনালি তখন বলেছিলেন, ‘‌আমি মমতাদির বাড়ির লোক ছিলাম। মমতাদি এটা করতে পারেন, বিশ্বাস করতে পারছি না। দিদি যেন এবারও মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। একবার আমাকে দিদি ডেকে বলতে পারত যে এবার তোকে টিকিট দিচ্ছি না।’‌ এই বিষয়ে সোনালি গুহকে খোঁচা দেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেন, ‘‌টুইটে মান–অভিমানের কথা বলেছেন সোনালি গুহ। উনি নিজের ইচ্ছেয় বিজেপিতে এসেছিলেন, নিজের ইচ্ছেয় চলে যাচ্ছেন। এটা একটা ব্যক্তিগত ব্যাপার।’‌

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *