সাপ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাপ সম্পর্কে আমাদের ধারণা মূলত সিনেমা -সিরিয়াল ও গ্রামে গঞ্জে খেলা দেখানো সাপুরেদের কাছ থেকে পাওয়া।
সাপ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি কল্প কাহিনী, নাগ-নাগিনী, সাপের মনি, বেহুলা লক্ষিন্দার, পদ্মা দেবি আরো অনেক রুপকথা জানা যায়। আসলে এগুলো কোনটাই বাস্তবিক বা বিজ্ঞান সম্মত নয়,সব কিছুই মিথ্যা ধারনা ছাড়া আর কিছুই না।
১। সাপের আচরন – সাপ অত্যান্ত নিরিহ ভিতু ও পলায়নপর প্রাণী। এরা কোন কিছু দেখলে আক্রমনের চেয়ে পলায়ন নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে।বিপদে না পরলে সহজে কাউকে কামড় দেয় না।
সাপ বেশি আলোতে চোখে দেখে কম, তবে কম বা আবছা আলোতে মোটামোটি দেখতে পারে। তাই এরা ইদুরের গর্ত, বাসার হাড়ি, টেবিলের ড্রয়ার বা গাছের গর্তে থাকতে ভাল বাসে। শিকারের নড়াচড়ার কম্পন, জিহবা দিয়ে নেওয়া ঘ্রান,তাপমাত্রার শুক্ষ্ম পার্থক্য দিয়ে আকার, গতিবিধি ও আচরন শনাক্ত করতে পারে।
সাপ কানে কোন শব্দ শোনে না। সুতরাং সাপুড়ের বাশির সুরে আসক্ত হওয়ার কোন কারন নেই। সাপুড়ের বাশির নড়াচড়ায় সে আত্বরক্ষার জন্য নিজেকে বাশির সাথে দোলাতে থাকে।
তাবিজ বা গাছের শিকর দিয়ে সাপের মাথা নিচু করা, বা অন্যত্র মুখ লুকানো একটা ধাপ্পাবাজ মাত্র।
প্রথমে একটা সাপকে ধরে কয়েক দিন বাক্সে আটকে রাখলে এমনি কিছুটটা দুর্বল হয়ে পড়ে। তারপর এই ধরা সাপটিকে তাবিজের আকৃতির লোহার টুকরো আগুনে গরম করে সাপের মুখে ছেকা দেয় বেশ কয়েক বার। এতে সাপ অসহ্য যন্ত্রনা পায়। সাপুড়েরা যখন সাপ নিয়ে খেলা দেখাতে যায়, তখন বাক্সের স্যাকা দেওয়া সাপটির মুখে তাবিজ ধরলে সাপ তাবিজকে গরম লোহা মনে করে ছ্যাকা যন্ত্রনা থেকে আত্বরক্ষা করতে মুখ লুকাতে এদিক ওদিক ব্যস্ত হয়ে পড়ে। চতুর সাপুড়ে তখন এটাকে তার তাবিজের কেরামতি বলে তাবিজ বিক্রি করতে থাকে। আসলে নতুন কোন সাপকে যদি তাবিজ দেখানো হয় তাতে কোন ফল পাওয়া যাবে না।
সাপের খাদ্য – সাপ নিরামিষ বা তৃর্নভেজি নয়, এরা টিকটিকি, ফসলের ক্ষতিকর ইদুর,পাখি,ব্যাঙ ডিম এমন কি বড় অজগর মানুষ পর্যন্ত খেতে পারে। এরা কখনো কোন তরল জিনিস তুষে বা কোন খাদ্য চিবিয়ে খেতে পারে ন। এরা প্রথমে তাদের লালাগন্থ্রি থেকে নিঃসৃত লালা( বিষ) দিয়ে শিকারকে অবশ বা মেরে ফেলে অথবা পেছিয়ে ধরে শিকারকে হত্যা করে আস্তে আস্তে গিলিয়ে ফেলে।
সাপ দুধের বাটিতে মুখ ডুবিয়ে অন্য খাবার খুজতে থাকে তাতে নড়াচড়ার কারনে কিছু দুধ পড়ে কমে যায় যেটাকে সাপ দুধ খেয়েছে বলে চালিয়ে দেয।
সাপ গরুর দুধের বাটকে খাদ্য মনে করে কামড়াতে থাকে কিন্তু দুধ চুষে খাওয়ার এনাটমিকেল ট্রাকচার সাপের নেই।
সাপের স্মৃতি শক্তি একে বারেই দুর্বল। এরপক্ষে কোন মানুষকে চিনে রাখা বা মনে রাখা একেবারেই অসম্ভব। তাই কারোর পোষ মানা বা মনিবের আনুগত্য হয়ে চলা সম্ভব নয়।
সাপ নিজের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করতে অক্ষম।বাহিরের তাপমাত্রা কমে গেলে শীত নিদ্রায় চলে যায়,তা এক নাগারে ৬ মাস পর্যন্ত হতে পারে, তখন দেহের চর্বি ভেঙ্গে বিপাক ক্রিয়া চালাতে থাকে। তাপ মাত্রা অনুকুলে এলে শীত নিদ্রা ছেড়ে বাহিরে চলে আসে।
সাপ ঘন্টায় ১৫/২০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে তাই সাপের পক্ষে দৌড়ে ধাওয়া করে কাউকে কামড় দেওয়া সম্ভব নয়।
এবার আসা যাক সাপের বিষ কি?
সাপের বিষ সাপের স্যালিবারি গ্লাড থেকে নিঃসৃত এক ধরনের লালা ( এনজাইম), যা খাদ্যকে অবশ,ও পিচ্ছিল করে পাকস্থলীতে পৌছে দিতে ও হজমে সাহায্য করে। এতে হেমো টক্সিন ও নিউরো টক্সিন থাকে যা কামড়ানো ব্যক্তির রক্তে ও স্নায়ুতে মিশে মৃর্ত্য ঘটায়।
একটা গোখরো সাপের যতটুকেন বিষ আছে তা দিযে একটা হাতি মেরে ফেলা সম্ভব। সাপ কর্তিত মাথা দিয়ে কাউকে কামড় দিলে মারা যেতে পারে।
পৃথিবীর যত সাপ আছে তার মাত্র ৭- ১০ ভাগ সাপের বিষ আছে বাকি সাপের কোন বিষ নেই। বিষাক্ত সাপের বেশি ভাগ থাকে সাগরে। সাপে কামড়ানো রোগি বেশি ভাগ মারা যায় ভয় বা আতংকে, অজ্ঞতা অথবা সাপুড়েদের বা ঝার ফুকের কারনে।
মনে রাখতে হবে একটা বিষাক্ত সাপ কামড় দিলেও যদি বিষ ঢালার সুজোজ না পায়। অথবা বিষাক্ত সাপ যদি খাবার গ্রহনের পরেই কাউকে কামড় দেয় তাহলে তার লালা গ্লান্ডে যতটুকুন বিষ ছিল তা তার খাবারের সহিত পাকস্থলীতে চলে গেছে তাই কামড়ে বিষ ঢালার সুজোগ পাবে না।
আমাদের দেশে গোখরো,কেউটে,চন্দ্রবোড়া,দাড়াস,ও সামগ্রিক সহ মোট ৮২ ধরনের সাপ আছে।
বিষাক্ত সাপের কামড়ের লক্ষন সমুহ।
১। কামড়ের স্থানে ফুলে যাওয়া, ব্যথা থাকা,
২। মাথা /পেট ব্যাথা, বমিভাব
৩। স্নায়ু সমস্যা।( চোখ ভারি হযে আসা, শরীরের উপর ব্যালান্স না আসা।
৪। হেমো টক্সিনের কারনে কিডনি জটিলতায় লাল প্রসাব।
প্রাথমিক করনিয়
সাহস দেওয়া, ঘুমাতে না দেওয়া,সুর্যালোক থেকে দুরে রাখা, আক্রান্ত অঙ্গ উচুতে রেখে নড়াচড়া বন্ধ করা, খুব শক্ত করে বাধ না দেওয়া( বাধনের ভিতর দিয়ে অনায়াসে আঙ্গুল চলবে)
অতি তাড়াতাড়ি নিকটতম হাসপাতালে পাঠানো।
বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা-
Anti venom দিয়ে যে কোন বিষাক্ত সাপে কামড়ানো রোগিকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।
তাই সাপে কামড়ানো রোগিকে নিয়ে আতংকিত না হয়ে অথবা সাপুড়ের ঝাড়ফুক দিযে সময় নষ্ট না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়া দরকার। এতে রোগির জীবন রক্ষা পাবে।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *