গাছ থেকে চাল পুরোটাই বেগুনী, স্বাস্থ্যের পক্ষেও “গুনী”

বাংলাদেশ: বিভিন্ন পত্রিকায় বেগুনী রংয়ের ধানের চমক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর সারা দেশ ব্যাপী কৃষি অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও গবেষক এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার নারী পুরুষ বেগুনী ধান দেখতে ভীড় করছেন বাংলাদেশের গাইবান্ধায়। দর্শকের ভীড় ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ হতে দুইজন গ্রাম পুলিশকে ধানক্ষেত পাহাড়া দেওয়ার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে ধানক্ষেত পাহারা দিচ্ছে পুলিশ ।

উপজেলা কৃষি অফিসার রাশেদুল ইসলাম প্রতিদিন ক্ষেত দর্শন করছেন। এছাড়া দর্শকরা যাতে ধানের পাতা, ডাল ও শীষ ছিঁড়ে নিয়ে যেতে না পারে সে জন্য ক্ষেতের চারপাশে জাল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, কৃষি অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কমপক্ষে ১০টি প্রতিনিধি দল এ পর্যন্ত বেগুনী ধানক্ষেত পরিদর্শন করেছেন।উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাশেদুল ইসলাম জানান, গোছা প্রতি ১৮ হতে ২৮টি শিষ রয়েছে। পাশাপাশি একটি শীষে ১৬০ হতে ৩১৩টি পর্যন্ত ধান পাওয়া গেছে। রামজীবন ইউনিয়নের আইপিএম কৃষক ক্লাবের সদস্য দুলালী বেগম। দুলালী বেগম জানান, এই ধানের চারা রোপণের পর তিনি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কৃষি কর্মকর্তারা তাকে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়েছেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য উৎপাদিত সব ধান বীজ হিসেবে সংগ্রহে রাখার জন্য ইতিমধ্যে বীজ সংরক্ষণের পাত্র দিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।

২০১৭ সালে তার এক আত্মীয়ের কাছে নতুনরকম ধানের কথা শুনে সামান্য বীজ সংগ্রহ করে বোরো মৌসুমে মাত্র এক শতক জমিতে কৌতূহলবশত এই ধান চাষ করেন। চাষের পর ধানের রঙে ভিন্নতা দেখে তার কৌতূহল আরও বেড়ে যায় এবং উৎপাদিত ধান থেকে ২০১৮ সালে বোরো মৌসুমে তিনি স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে প্রতি গোছাতে একটি করে চারা দিয়ে প্র্রায় ২৫ শতক জমিতে ওই ধানের আবাদ করেন।গত বছর বোরো ২৮ ধানের আবাদ করেছিলেন। সেই ২৮ ধানের সাথে ২০/২৫ টি ধানের গোছা বেগুনী রংয়ের আবাদ হয়েছিল। বেগুনী ধান গুলি আলাদা কেটে সংরক্ষন করে এ বছর ১৮ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন।কৃষানীর নাম দুলালী ও উপজেলার নাম সুন্দরগঞ্জ হওয়ায় এ ধানের নাম দেওয়া হয়েছে দুলালী সুন্দরী।

এটি বাংলাদেশে চাষাবাদের তেমন নজির না থাকায় এ বিষয়ে গবেষণা আমাদের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তায় গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন কৃষি অফিসার।সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের আইপিএম কৃষক ক্লাবের সদস্য দুলালী বেগম। সরেজমিন দেখা গেছে, ধান গাছটি দেখতে পুরোপুরিই বেগুনি। পেনিকেল বা শীষটি সাধারণ উফশী ধানের মতোই। গড়ে প্রতি গোছাতে ২৫টি কুশি পাওয়া গেছে, যেখানে পার্শ্ববর্তী উফশী ক্ষেতে গড়ে ২১টি গোছা রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিন পর পেনিকেল সাইজ এবং প্রতিটি পেনিকেলে কতটি ধান থাকবে সেটি জানা যাবে। কুশির সংখ্যা যেহেতু তুলনামূলক বেশি সে কারণে ফলন বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। জীবনকাল অন্যান্য উফশী ধানের মতোই ১৪০ দিন হতে পারে। বেগুনি ধানের চাষাবাদের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন শত শত কৃষক একনজর দেখতে আসছেন।

ধানগাছ এবং ধান নয় এর চালও বেগুনী।অতিরিক্ত মাত্রার এন্থোসায়ানিন ও এন্টিঅক্সিডেন্টের কারণে এ ধানের রঙ বেগুনি হয়। ব্লু-বেরির চেয়েও এই ধানে এন্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বার্ধক্য রোধ করে অর্থাৎ আপনার যৌবন সুদীর্ঘ স্থায়ী হবে। ত্বক, চোখ, টিস্যু, সন্ধি, হৃত্পিণ্ড ও মস্তিষ্কের সুপরিণতি ধীর করে দেয় ।

স্বাস্থ্যবান, অধিক প্রফুল্ল, চামড়া উজ্জ্বল করে ।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয় ।

বেগুনী পাতার এই ধানের নাম ওরিভা স্যাটিভা বা “ব্ল্যাক মাদ্রাজ”। দু’ হাজার ১১ সালে চীনের নদী উপত্যকায় প্রথম এই ধানের চাষ হয়েছিল।

দ্রুত ফলন দেয়ায় এই জাতের ধানে ব্লাস্ট রোগ বা পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হয় না। গাছটি শক্ত হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টিতেও হেলে পড়ার সম্ভাবনা কম বলে জানালেন এই মাঠ কর্মকর্তা।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *