পিছু হটল বিজেপি, প্রধানমন্ত্রীর সভা স্থল বদল

দেশ ও এই সময় নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রীর সভা কোথায় হবে সেটা খতিয়ে দেখার জন্য রবিবার সকালে ঠাকুর বাড়িতে আসেন বিজেপি নেতা মুকুল রায় । বিজেপি জেলা সভাপতি প্রদীপ ব্যানার্জি সহ মঞ্জুল কৃষ্ণ ঠাকুরের ছোট ছেলে শান্তনু ঠাকুর এবং অন্যান্য হাতেগোনা কয়েকজন বিজেপি নেতা৷ বিভিন্ন মাঠ ঘুরে শেষে সিদ্ধান্ত হয় ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন মাঠেই হবে সভা৷ এদিন সকালে ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায় সেখানে মূলত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন শান্তনু ঠাকুরের লোকজন। ২৮ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মমতা বালা ঠাকুরের নেতৃত্বে সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘ ঠাকুরবাড়িতে ঠাকুর বাড়ি সংলগ্ন মাঠে একটি ধর্মীয় সভা করবে বলে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন নেয় ৷ এর পাশাপাশি শান্তনু ইতিমধ্যে আলাদাভাবে মতুয়া মহাসঙ্ঘের সভা করার জন্য সেখানে অনুমোদন পেয়েছে আর এই নিয়েই ঠাকুরবাড়িতে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ফলে প্রধানমন্ত্রীর ঠাকুর বাড়িতে আসা কে কেন্দ্র করে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি গাইঘাটা থানার ঠাকুরনগরে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে রাজ্য জুড়ে তিনশোর বেশি জনসভা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে রাজ্য বিজেপি সূত্রে৷ রথযাত্রার ঘাটতি পূরণই এক্ষেত্রে বিজেপির মূল বিষয়৷ এদিন ঠাকুরবাড়িতে একান্ত বৈঠক করেন পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুকুল রায় বলেন বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য লোকসভা এবং রাজ্যসভায় বিল আসছে এ ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন কংগ্রেস তৃণমূল সহ সমস্ত বিরোধীরা এককাট্টা হয়ে নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরোধিতা শুরু করেছে এতে আখেরে কোন লাভ হবে না কারণ কেন্দ্রের বিজেপি সরকার জনস্বার্থে কাজ করছে আর তিনি দাবি করেছেন, ঠাকুরনগরের জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বড়মার সঙ্গেও দেখা করবেন৷ তবে বড়মাকে মঞ্চে নিয়ে যাবার কোনও কর্মসূচি নেই৷ প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাড়িতে এসেই বড়মার সঙ্গে দেখা করবেন৷ বড় মায়ের কাছে প্রধান মন্ত্রী আসছেন জেনে খুশি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ৷ দশ দফা দাবী নিয়ে প্রধান মন্ত্রীর মন্ত্রকে গিয়েছিল মতুয়া মহা সংঘ সেই দাবী পূরণের সদ্বিচ্ছা জানিয়ে, প্রধানমন্ত্রী বড় মায়ের সাথে দেখা করতে আসছেন৷ বড় মায়ের ছোট নাতি শান্তনু ঠাকুরের কথায় আমি রাজনীতি বুঝিনা, মতুয়া মহাসংঘের মানুষদের প্রয়োজন মিটুক, সেটাই চাই। বড় মায়ের কাছে প্রধান মন্ত্রী আসছেন জেনে খুশি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ৷ দশ দফা দাবী নিয়ে প্রধান মন্ত্রীর মন্ত্রকে গিয়েছিল মতুয়া মহা সংঘ সেই দাবী পূরণের সদ্বিচ্ছা জানিয়ে, প্রধানমন্ত্রী বড় মায়ের সাথে দেখা করতে আসছেন৷ শান্তনু ঠাকুরের কথায় ,”ওরা মেলার মাঠে সভা করাতে যখন আপত্তি জানাচ্ছে, তখন আমরা ছেড়ে দিলাম। আমরা দেখতে চাই প্রধানমন্ত্রীর সভায় বেশি লোক হয়, না ওই সভায় বেশি লোক হয়। আমাদের কাছে এটা একটা চ্যালেঞ্জ।”

প্রধানমন্ত্রী কি বড়মার সঙ্গে দেখা করবেন ?

শান্তনু : সেটা কোনও বড় বিষয় নয়। বড়মা মতুয়া মহাসংঘের ধারক ও বাহক। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে দেখা করতেই পারেন।

মেলার মাঠটা ছেড়ে দিলেন কেন ?

শান্তনু : মাঠ ছেড়ে দেওয়ার বিষয় নয়। কেউ যদি কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে চান, সেখানে আমরা বাধা দিতে পারি না। যারা হিংসার বশে প্রধানমন্ত্রীর সভার মোড় ঘুরিয়ে দিতে চাইছে, তাদের আমাদের কিছু বলার নেই।

হেলিপ্যাডের মাঠটা চাষের মাঠ, এই কয়েকদিনের মধ্যে কি প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব ?

শান্তনু : মতুয়ারা চাইলে সব পারে। এতবড় সর্ষে খেত রাতারাতি সমান করে দেওয়া হয়েছে। আর এই মাঠ সভার জন্য উপযুক্ত করতে আমাদের দু’দিন লাগবে।

“ওরা মেলার মাঠে সভা করাতে যখন আপত্তি জানাচ্ছে, তখন আমরা ছেড়ে দিলাম। আমরা দেখতে চাই প্রধানমন্ত্রীর সভায় বেশি লোক হয়, না ওই সভায় বেশি লোক হয়। আমাদের কাছে এটা একটা চ্যালেঞ্জ।”

প্রধানমন্ত্রী কি বড়মার সঙ্গে দেখা করবেন ?

শান্তনু : সেটা কোনও বড় বিষয় নয়। বড়মা মতুয়া মহাসংঘের ধারক ও বাহক। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে দেখা করতেই পারেন।

অন্যদিকে তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে , এই সভাতে পৌঁছনোর রাস্তায় মোদীকে কালো পতাকা দেখানো হবে৷ শুধু তাই নয়, মোদীর সভার আগের দিন অর্থাৎ ১লা ফেব্রুয়ারি এলাকায় বড় মিছিল করবে তৃণমূল সূত্রের খবর৷ বিজেপি যাতে কোনও প্রকারেই তৃণমূলের এই ভোটবাক্সে থাবা বসাতে না পারে সেটি দেখছেন স্বয়ং জ্যোতিপ্রিয়বাবু নিজে৷ মতুয়াদের সঙ্গে তো বটেই মাঝে মধ্যেই তিনি সংঘের বড়মা বীণাপাণি দেবীর শারীরিক হাল-হকিকত জানতে হাজির হয়ে যান হাবরার বিধায়ক তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী৷ তবে শান্তনু ঠাকুর দাবি করলেই যে তা পূরণ হবে তা একেবারেই নয়৷ কারণ প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা প্রটোকল মেনে ঠিক হয়৷ যার পুরোটাই দেখেন প্রধানমন্ত্রীর দফতর৷ তাই মতুয়া মহাসংঘের বড়মার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের বিষয় নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা৷ যদিও রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয়বাবুর দাবি, ‘‘সে অনুমতির চিঠি আসলেও কোনও লাভ হবে না৷ কারণ বড়মা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেননা” । জানা গেছে ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন যে মাঠে ২ফেব্রুয়ারি প্রধান মন্ত্রীর সভা হওয়ার কথা,সেই মাঠে ২৮ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাভারত মতুয়া মহাসংঘের মমতা বালা ঠাকুরের গোষ্ঠীর একটি ধর্মীয় সভা হওয়ার কথা। তাঁর জন্য সরকারী অনুমোদনও দিয়ে দেওয়া হয়ে

রবিবার মুকুল রায়কে সাথে নিয়ে এলাকা পরিদশর্ন করে স্থির হয়েছে ঠাকুর বাড়ির পার্শ্বস্থ অন্য একটি মাঠে সভা হবে , আর সেখানেই আসবেন প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সভাথেকে কিছুটা দূরেই একটি মাঠে হেলিপ্যাড তৈরীর অনুমতি পেয়েছে বলে জানান বিজেপি জেলা সভাপতি প্রদীপ ব্যানার্জি।যদিও মঞ্জুল কৃষ্ণ ঠাকুরের কথায় ঠাকুর নগরে নরেন্দ্র মোদীর সভার আয়োজনে নেই রাজ্য বিজেপি৷ এখানে সভার আয়োজন করছে সারা ভারত মতুয়া সঙ্ঘের তরফে তার ছোট ছেলে শান্তনু ঠাকুর।অন্য দিকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি,তথা হাবরার বিধায়ক ও খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক চ্যালেঞ্জের সাথে বলেন বড়মা দেখাই করবেন না প্রধান মন্ত্রীর সাথে।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *