অশোকনগরের জোড়া ঘটনা- প্রমাণ দিল কুসন্তান হলেও কুমাতা-পিতা কখনোই নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, অশোকনগর: কথায় বলে ‘কুসন্তান’ হলেও কুমাতা কুপিতা কখনোই নয়। অর্থাৎ সন্তান যতই খারাপ হোক না বাবা মা কখোনোই সন্তানের খারাপ চান না। আর এই ঘটনার স্বাক্ষী থাকল অশোকনগর। ২৪ ঘন্টার মধ্যে শহরের দুই প্রান্তের দুই ঘটনা আবারও যেন প্রমাণ করল চির চেনা এই প্রবাদটির ….

ঘটনা ১ | অশোকনগর

ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত মা’কে মিষ্টি খাওয়ানোর “অপরাধে” বাবার গায়ে হাত তোলেন ছেলে। চরম নিগৃহীত হতে হয় ছেলের হাতে বাবার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই অশোকনগর থানার পুলিশ ছেলেকে গ্রেফতার করে। ছেলে পৌরসভার অস্থায়ী কর্মী। পাকা বাড়ি কিন্তু বাবা মাকে রেখে দিয়েছেন বেঁড়ার ঘরে। রোজই নাকি চলত অত্যাচার এমনই দাবী প্রতিবেশীদের। পাড়া প্রতিবেশীদের পিড়াপিড়িতেই থানায় অভিযোগ জানান বৃদ্ধ পিতা। কিন্তু সেই বাবাই রাতে থানায় গিয়ে ওসির কাছে অনুরোধ রাখেন যাতে ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষে ছাড়া সম্ভব হয়নি কারণ ততক্ষণে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়ে গিয়েছিল। ফলে সারারাত পুলিশ লকাপে কাটানোর পর সকালে ছেলেকে পাঠানো হয় বারাসাত আদালতে কিন্তু সেখানে পৌঁছে ছেলের মুক্তি দাবি করেন বাবা। আদালতে বিচারকের সামনে ছেলের মুক্তির আবেদন করতে গিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দেন এই ৯৪ বছরের বৃদ্ধ পিতা। জানান, ছেলেকে যদি ছাঁড়া না হয় তাহলে তিনি আত্মহত্যার পথ বাছবেন। তিনি বলেন, ‘আমি তো অন্যায় করেছি’! সাথে এও বলেন যে তিনি তাঁর ছেলেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন আদালত যেন তাঁর সন্তানকে মুক্তি দেবার ব্যবস্থা করে। এরপর আর কিছু করার থাকে না বিচারকের। পিতার এই করুন আর্তনাদে সাড়া না দিয়ে পারেননি বিচারক, ছেলের জামিন মঞ্জুর করেন। সবশেষে বৃদ্ধ বাবা মানিকলাল বিশ্বাসের সাথেই অশোকনগরে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে প্রদীপ বিশ্বাস।

ঘটনা ২| কল্যাণগড়

বউমা মারা গিয়েছে মাস তিনেক আগে। মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি আসে ছেলে। কোনো কারনে তর্কাতর্কি লাগে। আর সেই কথাকাটাকাটির মাঝেই হাত চালিয়ে দেয় ছেলে। মায়ের মুখে ঘুসির সাথে বাঁ হাতে রড দিয়ে বাড়ি দেয়। কেটে যায় বৃদ্ধা মায়ের হাত। দর দর করে গড়িয়ে পড়ে রক্ত। সেই রক্ত নিয়েই প্রাণ বাঁচাতে ছুটে বেড়িয়ে যান বাড়ি থেকে। প্রতিবেশীরা সেই অবস্থা দেখে খবর দেন পুলিশে। পুলিশ এসে কল্যাণগড় থেকে ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলেও কিছু সময় পর আক্রান্ত বৃদ্ধা মা নিজে থানায় গিয়ে ছেলেকে ছেড়ে দেবার জন্য আর্জি জানান এবং লিখিত বয়ান দেন যে তাঁর এই আঘাতের জন্য তিনি তাঁর ছেলেকে অভিযুক্ত করছেন না এবং তিনি এই ঘটনার জন্য কোনোও কেসও করবেন না বলে জানান কারণ হিসেবে তিনি বলেন ছেলে ছাড়া আর কেউ নেই তাকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। বৃদ্ধা লক্ষ্মী মিত্রের এই বয়ানের পর কর্মরত অফিসাররা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পরেন। তবে অভিযুক্ত মদপ্য শিব শঙ্কর মিত্রকে ছাড়েননি অফিসারেরা। মদ্যপ অবস্থায় গ্রেফতার হবার জন্য অফিসারেরা তাঁকে আদালতে পেশ করে। ওদিকে বিছানা থেকে সকাল থেকে উঠতে পারছিলেন না মা। কিন্তু তারমধ্যেও সে আদালতে পৌঁছে ছেলের জামিন করিয়ে আনেন।

অশোকনগর কল্যাণগড়ের এই দুই ঘটনা যেন বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল- কুসন্তান হলেও কুমাতা-পিতা কখনই নয়।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *