প্রকাশ্য রাস্তায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তৃণমূল কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে

দেবু সিংহ, মালদা, ২৬ এপ্রিল : মালদায় তৃতীয় দফার লোকসভার ভোট মিটে যাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফের রক্তাক্ত হলো পুকুরিয়া থানার শিমলা গ্রাম । দলের ওই কর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন আরও দুই তৃণমূল কর্মী রাজু মহালদার (৩২) এবং গণেশ মহালদার (২৮) । তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আড়াইডাঙ্গা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বুধবার রাত সাড়ে ১১ নাগাদ এই ঘটনার পর সিমলা গ্রামে পুকুরিয়া থানার বিশাল পুলিশবাহিনী তদন্তে যায়। এই খুনের ঘটনার বিষয়ে হামলাকারী উত্তম মাধ্যম, শক্তি মহালদার সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে পুকুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের দাদা টুটুল মহালদার । ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্তরা। তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সনাতন মহালদার (৩০)। এলাকার সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিল সে। এছাড়াও সে হকারি করতো। পরিবারে তার স্ত্রী, চার বছরের ছেলে, বাবা, মা, ভাই সকলেই রয়েছেন। এদিন রাতে ওই এলাকায় কীর্তনের আসর থেকে ফেরার সময় সশস্ত্র একদল দুষ্কৃতী তাকে প্রকাশ্য রাস্তায় ঘিরে ধরে । এরপর হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে খুন করে ।সনাতন মহালদারের রেরর একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে।

মৃতের মা পার্বতী মহালদার পুলিশকে জানিয়েছেন, তাদের পরিবার তৃণমূল সমর্থক। তার ছেলে এলাকার সক্রিয় তৃণমূল কর্মী । কিন্তু বিজেপির লোকজন লোকসভা ভোটের আগে থেকেই তাদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। এলাকার বিজেপির লোকেদের কথা আমার ছেলে মেনে নেয় নি। ভোটের আগে বাড়ির সামনে তৃণমূলের অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছিল। আর তাতেই বিজেপির কর্মীরা বদলা নেওয়ার জন্য হুমকি দিতে থাকে। এদিন রাতে কীর্তনের আসরে গিয়েছিল ছেলে। আর সেখান থেকে ফেরার সময় আমার ছেলেকে বিজেপির লোকজনেরা নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে । বাড়ি থেকে মাত্র ৪০ মিটার দূরেই ছেলের আত্মচিৎকার শুনেই আমি ছুটে যাই। দেখি ও রাস্তায় ছটফট করছে । অভিযুক্তরা রক্তাক্ত হাঁসুয়া নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । এরপরই আমাদের চিৎকারে গ্রামের লোকজন ছুটে আসেন। পুলিশকে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

উত্তর মালদার তৃণমূল নেতা দেবোপ্রিয় সাহা বলেন, আমার কেন্দ্র পুকুরিয়া এলাকার শিমলা গ্রামের দলের এক কর্মীকে নৃশংসভাবে খুন করেছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা । যেহেতু সনাতন হালদার তৃণমূল করতো সেই জন্যই ওকে এভাবে খুন করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পুলিশের কাছে জানানো হয়েছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হলে রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করব।

বিজেপির জেলা সভাপতি সঞ্জীত মিশ্র জানিয়েছেন, যে খুন হয়েছে তিনি তৃণমূল করতেন। আর হামলাকারীরা বিজেপির সমর্থক। কিন্তু এই ঘটনার পিছনে রাজনীতির কোন রং নেই। কীর্তনের আসনের কমিটি গঠন এবং টাকা পয়সা তোলা নিয়ে গোলমালের সূত্রপাত বলে জানতে পেরেছি। ওই কীর্তনের আসরে দুটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল। কারা টাকা তুলবে, কারা কীর্তনের আসর পরিচালনা করবে এই নিয়ে গোলমাল শুরু হয় । আর সেই গোলমাল সংঘর্ষে পরিণত হয়। তারই জেরে একজন মারা গিয়েছে । তৃণমূল যে অভিযোগ করছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। পুলিশ প্রকৃত তদন্ত করলে ঘটনাটি সামনে আসবে।

পুলিশ সুপার অজয় প্রসাদ জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে । অভিযুক্তদের খোঁজে চালানো হচ্ছে।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *