প্রয়াত কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

কলকাতা, ২৫ ডিসেম্বর : চলে গেলেন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। আজ বেলা ১২টা ২৫ মিনিট নাগাদ বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর জীবনাবসান হয়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। উলঙ্গ রাজা কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৭৪ সালে সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য বিকাল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত রবীন্দ্রসদনে শায়িত থাকবে তাঁর মরদেহ। সেখান থেকে তাঁর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বাঙুর অ্যাভিনিউর বাড়িতে। সন্ধে সাড়ে ৭টার পর নিমতলা শ্মশানে তাঁকে গান স্যালিউটে বিদায় জানানো হবে।

বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি ফুসফুসে সংক্রমণ এবং কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। ৯ ডিসেম্বর থেকে মুকুন্দপুরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। সেই সঙ্গে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। ভেন্টিলেশনেও রাখা হয় তাঁকে। হাসপাতালের জোনাল ডিরেক্টর আর ভেঙ্কটেশ জানিয়েছেন, কিডনি এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন কবি। তাঁর ডায়াবেটিসও ছিল। সব মিলিয়ে আজ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে কবির কিডনি ফেলিওর হয়।

১৯২৪ সালের ১৯ অক্টোবর জন্ম নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর। তাঁর শৈশবের পুরোটাই কেটেছে বাংলাদেশের ফরিদপুরে ঠাকুরদা আর ঠাকুমার কাছে। কবির মা ও বাবা কলকাতায় কর্মসূত্রে থাকতেন। ১৯৩০ সালে কলকাতায় চলে আসেন। মিত্র ইনস্টিটিউশন, বঙ্গবাসী এবং সেন্ট পলস কলেজে পড়াশোনা। ১৯৫১ সালে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকায় কাজে যোগ দেন। জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে তিনি আনন্দমেলা পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন। কবির পাশাপাশি নীরেন্দ্রনাথ ছিলেন ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, গদ্যকার, গোয়েন্দা-গল্পকার, শিশুসাহিত্যিক, ভ্রমণ-কাহিনির লেখক, সম্পাদক এবং বানান-বিশেষজ্ঞ।

১৯৫৪ সালে প্রকাশ পায় তাঁর প্রথম কবিতার বই নীল নির্জন। তারপর অন্ধকার বারান্দা, নিরক্ত করবী, নক্ষত্র জয়ের জন্য, আজ সকালে পরপর একাধিক কবিতার বই প্রকাশ পায়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তাঁর সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্রের নাম ভাদুড়ি মশাই। আনন্দ পুরস্কার, সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার দিয়ে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। ১৯৯০-এ বিশ্ব কবি সম্মেলনে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। দেশ পত্রিকাতেও তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর চলে যাওয়ায় সাহিত্য মহল গভীরভাবে শোকাহত।কবির প্রয়াণে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বললেন, “নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। আমাদের সবার কাছে এটা বিশাল ক্ষতি। বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তাঁর কাজের জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ২০১৭ সালে আমরা তাঁকে বঙ্গবিভূষণ সম্মানে সম্মানিত করি। তাঁর পরিবরের প্রতি সমবেদনা।”

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *