মামাবাড়ি থেকে ফেরার পথে “চপ” কিনে নিয়ে আসলেন মমতা

ভাস্কর মন্ডল, বীরভূম : ২৯ শে জানুয়ারি রামপুরহাটে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ রামপুরহাটের সানঘাটা মোড়ে একটি প্রশাসনিক সভা করেন আর তারপরেই ছুটে যান তাঁর বেড়ে ওঠা রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামের মামার বাড়িতে। পাঁচ বছর পর সেই মামার বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যোগ দিলেন মামার বাড়ি লাগোয়া একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে।

গ্রামের মেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তৈরি ছিল গ্রামবাসীরাও। বহু বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর কালিঘাটের বাড়িতে থাকেন কুসুম্বা গ্রামের মন্টু দাস। তাঁর বড় ছেলে কৃশানু দাসের বিয়ে। সেই অনুষ্ঠান উপলক্ষে কথামতো আজ কুসুম্বা গ্রামের সেই বিয়ে বাড়িতে এলেন তিনি। যাবেন বিয়ে বাড়ি লাগোয়া মামার বাড়িতেও।

আজ রামপুরহাটের সানঘাটা ব্রিজ সংলগ্ন মাঠে পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান সমাপ্ত করে কুসুম্বা গ্রামে যেতে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে। বিয়েতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আসছেন তাই বাড়ির সামনে বিশাল প্যাণ্ডেল তৈরি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে যে রুমে বসানো হবে সেই ঘরের দেওয়ালে পড়েছে সুবজ রঙের প্রলেপ। গোটা বাড়ি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। সোমবার রাতেই কুসুম্বায় নিজের বাড়িতে এসেছেন মন্টুবাবুও। দিদির পছন্দের সব খাবারই বৌভাতের মেনুর তালিকায় রাখা হয়েছে।

নিজের গ্রামের মামার বাড়িতে এসে মুখ্যমন্ত্রী নিজের মনের কথা সকলের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়তাম, তখন থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত একবারে ৫ বছর আমি আর আমার দাদা পরীক্ষা হয়ে গেলে রোজ বেড়াতে আসতাম। আমি এখানে প্রত্যেকটি পুকুরের নাম থেকে প্রত্যেকটি বাড়ি চিনি।”

তিনি অবশ্য আফসোস করে বলেন, “আমার বাবার জন্ম স্থান চাটাইপুর, সেখানে আমার কোনদিনও যাওয়া হয়নি। ওখানকার অনেক ছেলেমেয়েরাই আজ এসেছিল এবং জ্যাঠামশাই এর পরিবার থেকেও ৩০ বছর কোন যোগাযোগ নেই। আজ ওরাও এসেছিল এবং আমাকে যেতে বলেছে। ঐ গ্রামে আমাদের একটাই ব্রাহ্মণ পরিবার ছিল। ওখানে আমাদের দেবত্ত্ব সম্পত্তিও আছে আমাদের। ওখানে গ্রামের পুজো আর্চা ওরাই করে। ওই গ্রামে একটা মন্দির নির্মাণের কাজ ওরা করছে। আশিসের কাছ থেকে সেই জমির কাগজে দেখলাম আমার বাবার নাম রয়েছে।”

তবে এবারও বাবার জন্মস্থান চাটাইপুর যাওয়া হলো না, পরের বার যখন আসব তখন যাব। তিনি আরো বলেন, “আমাদের সময় থেকে এখন রাস্তাঘাট কত ভালো হয়ে গিয়েছে। আগে ৬ ফুঁকো দিয়ে আসতে আমাদের এক ঘন্টা সময় লাগত। এখন তো দশ মিনিটেই চলে আসছি।”

বিয়ে বাড়িতে এসে আমার খুব ভালো লেগেছে। যারা আমাদের যত্ন নেন তাদের কাজে এসে নিজেকে খুব খুশি মনে হচ্ছে।

মামার বাড়ি থেকে ফিরে আসার পথে একই চপের দোকান দাঁড়ান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেখান থেকে দশ বারোটি চাপ কিনে নিয়ে যান। তিনি নিজে গাড়ি থেকে নেমে চপ কিনেন।

যে দোকান থেকে চপ কিনে নিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী সেই দোকানের মালিক সমাদিশ বাউরি বলেন, “তিনি নিজে গাড়ি থেকে নেমে আমার দোকানের চপ কিনে নিয়ে গেলেন। আমি খুব খুশি। চপের দরুন আমাকে ৫০০ টাকা দিয়েও গেলেন এবং আশ্বাস দিয়ে গেলেন আমার দোকানটি তিনি দেখছেন বলে।”

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *