এবার কি লক্ষণ শেঠ তৃণমূলে? কি বলছেন শুভেন্দু

একসময়কার মেদিনীপুরের তথা হলদিয়া-তমলুকে অঞ্চলের মুকুটহীন বাদশা ছিলেন তিনি। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়ও সিপিএমের স্তম্ভ ছিলেন তিনি। নরমে-গরমে বিরোধীদের ‘ঠান্ডা’ করতে তিনি ছিলেন তুলনাহীন। এহেন প্রতিপত্তিশালী লক্ষ্মণবাবুর পতন শুরু হয় ২০০৭ সালের ১৪ মার্চের পর থেকে। ওই দিন নন্দীগ্রামে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। জনরোষ আছড়ে পড়েছিল সিপিএম নেতাদের ওপর। অভিযোগ, লক্ষ্মণবাবু ওই অপারেশনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এর জেরে হলদিয়া-তমলুক এলাকায় যেমন তাঁর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়, তেমনই সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্ব দায় এড়াতে লক্ষ্মণবাবুর সঙ্গে শীতল ব্যবহার শুরু করেন। ক্রমশ হলদিয়া-তমলুক এলাকায় লক্ষ্মণ শেঠের জায়গা দখল করে নেন তৃণমূল কংগ্রেসের শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর লক্ষ্মণ শেঠকে কিছুদিন কারাগারেও কাটাতে হয়েছে। ২০১৪ সালে সিপিএম তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। তারপর ২০১৬ সালে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখিয়েছিলেন সিপিএমের এই প্রাক্তন সাংসদ। চলতি বছর তাঁকে দল থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখতে তৃণমূলে যোগদান করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন।
উল্লেখ্য,কিছুদিন আগে লক্ষ্মণ শেঠ বলেছিলেন যে, শুভেন্দু অধিকারী চাইলে তাকে দলে নিতে পারে তৃণমূল। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছেন, নন্দীগ্রাম গণহত্যার নায়ক কে কোনো ভাবেই দলে নেওয়া হবে না।
এদিকে , এবার তৃণমূলের দাপুটে শুভেন্দু অধিকারীকে দায়ী করলেন লক্ষ্মণ শেঠ। লক্ষ্মণ বাবুর কথায়,“শুভেন্দু অধিকারী আমার ফোনই ধরে না। ও রাজি হলেই তৃণমূল আমাকে নেবে।”

অপরদিকে ,রাজনৈতিক মহল মনে করেছেন সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন অনেক দাপুটে নেতা তার পরেই তারা মন্ত্রী কেউ বিধায়ক হয়েছেন। সেই আশায় লক্ষ্মণ শেঠ ও মরিয়া হয়ে উঠেছেন শাসক দলে যোগদান করবার জন্য। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী যতদিন আছেন তাঁর এই আশা ,আশাই থেকে যাবে. হয়তো। তবে তাঁর আশা রাজনীতির সমীকরণ বদল হয়।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

2 thoughts on “এবার কি লক্ষণ শেঠ তৃণমূলে? কি বলছেন শুভেন্দু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *