হাবরায় উদ্ধার জাল চার লক্ষ টাকার রেল টিকিট, গ্রেফতার ৩ জন

দেশ ও এই সময় নিউজ ডেক্সঃ হাবরা রেলস্টেশন এলাকার সুপার মাকেটে “আস্থা এবং উড়ান” নামে দুটি ট্রাভেল এজেন্সি দোকান রয়েছে। এই দোকানেই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে রেলের টিকিট বিক্রি হচ্ছিল বলে অভিযোগ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রেল পুলিস এবং সিআইডি শনিবার হানা দেয় দুই দোকানে।
ঘটনার তদন্তে নেমে রেল পুলিশের আধিকারিকরা জানতে পারেন, বিভিন্ন নামে আইআরসিটিসির একাধিক ভুয়ো আইডি খুলে দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট হাতিয়ে দেওয়ার কারবার চলছিল৷ অভিযোগ, অনলাইন থেকে টিকিট হাতিয়ে পরে তা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী মোটা টাকায় বিক্রি করা হত৷ বেশি দাম দিয়ে টিকিট কিনতে অস্বীকার করা হলে যাত্রীদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হত, বাড়তি টাকা না দিলে মিলবে না টিকিট৷ কাউন্টার থেকে টিকিট কাটলে মিলবে ওয়েটিং টিকিট৷ অগত্যা, মোটা টাকার বিনিময়ে ‘কনফার্ম টিকিট’ কাটতে বাধ্য হতেন যাত্রীরা৷

বারবার অভিযোগের পরেই হানা দেয় পুলিশ, উদ্ধার হয় প্রায় চার লক্ষ টাকার রেল টিকিট।রেল পুলিস সুত্রে খবর, দীর্ঘ দিন ধরে এই দুই সংস্থা একাধিক মানুষের নামে একাধিক ফেক আইডি বানিয়ে অন লাইনে মোটা টাকায় টিকিট বিক্রি করছিল। সেই মতো তল্লাসিতে গিয়ে হাতেনাতে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে রেল পুলিস।

তদন্তকারী অফিসারেরা জানিয়েছেন, ‘আস্থা’ নামে ট্র্যাভেল এজেন্সিটি বিজয়ের এবং সঞ্জীবনের ট্র্যাভেল এজেন্সির নাম ‘উড়ান’। এক্ষেত্রে দূরপাল্লার রিজার্ভেশন টিকিট কাটার জন্য তাদের ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশনের (আইআরসিটিসি) বৈধ অনুমতি আছে। ফলে ট্র্যাভেল এজেন্সিকে আইআরসিটিসি থেকে টিকিট বিক্রির জন্য একটি করে নির্দিষ্ট আইডি দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, ওই আইডি ব্যবহার করেই তারা টিকিট কেটে বিক্রি করতে পারে। কিন্তু তারা ওই আইডি ছাড়াও বিভিন্ন নামে ব্যক্তিগত আরও গোটা পঞ্চাশ আইডি তৈরি করে টিকিট কেটে বিক্রি করছিল বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, এ জন্য বেশি টাকাও আদায় করা হত গ্রাহকদের কাছ থেকে। যা একবারেই বেআইনি।

উড়ান ট্রাভেল এজেন্সির মালিক সঞ্জীবন ঘোষ ও কৃষ্ণেন্দু দাস এবং আস্থার মালিক বিজয় কুমার দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তাদের বাড়ি হাবড়া থানার শ্রীনগর এলাকায়। ধৃতদের কাছ থেকে পুরনো ও নতুন টিকিট মিলিয়ে প্রায় ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক রিজার্ভেশন স্লিপ বা টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে।আরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরনো টিকিটে যাত্রীরা ভ্রমণ করে ফেলেছেন। নতুন টিকিটগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ফলে ওই টিকিট যাঁরা কেটেছিলেন, তাঁরা আর ওই টিকিটে ট্রেনে চাপতে পারবেন না। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় রেলওয়ে আইনের ১৪৩ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃত তিনজনকে বনগাঁ আদালতে তোলা হয়।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *