উচ্চ পদস্থ পুলিশ অফিসারের নামে ফেসবুকে ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা চাইবার অভিযোগ

শুভদীপ দাস, দেশ ও এই সময়:

ইন্টারনেটের এই যুগে পারস্পরিক যোগাযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিশেষ করে কোভিড পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক মহামারির সময় এসব মাধ্যমই হয়ে উঠেছে তথ্য আদান-প্রদান এবং সহযোগিতার অন্যতম পন্থা। একারণে প্রতিদিনই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। আর এই সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তম প্লাটফর্মটি হলো ফেসবুক। তবে এই অনলাইনভিত্তিক প্লাটফর্মটিতে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে ফেক (ভুয়ো) অ্যাকাউন্ট। বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে এইসব ফেক অ্যাকাউন্ট।

ফেসবুকে ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে জালিয়াতির খবর এর আগেও অনেকবার সামনে এসেছে।‌ কিন্তু এইবার এই জালিয়াতির শিকার খোদ এক উচ্চ পদস্থ পুলিশ অফিসার।

ঘটনার শিকার দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার কাকদ্বীপের এসডিপিও অনিল কুমার রায়। অনিল বাবু পুলিশ সার্কেলে অত্যন্ত ভদ্র সভ্য এবং সাংস্কৃতিক মনস্ক একজন পুলিশ অফিসার বলে পরিচিত। সম্ভবত সেই ইমেজকেই কাজে লাগিয়ে কেউ বা কারা তাঁর নামে একটি ফেক অ্যাকাউন্ট খোলে ফেসবুকে। অনিলবাবুর পরিচিত কয়েকজনের কাছে সেই অ্যাকাউন্ট থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়। তবে এখানেই শেষ নয়। যারা যারা ওই ফেক প্রোফাইলটির ফেন্ড্র রিকোয়েস্ট অ্যাক্সেপ্ট করেন তাদের মধ্যে কয়েকজনের ম্যাসেঞ্জারে ঐ অ্যাকাউন্ট থেকে ম্যাসেজ করা হয়। অভিযোগ অনিল বাবু অসুস্থ এবং হাসপাতালে ভর্তি দাবী করে সেই ম্যাসেজের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়। সেটা কারও কাছে ১৯৫০০, কারও কাছে ২৩৫০০ আবার কারও কাছে তারও বেশি! সেই সাথে একটি নাম্বার পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং বলা হয় যে গুগল পে বা ফোন পের মতো যেকোনো অনলাইন মানি ট্রান্সফার অ্যাপসের ম্যাধ্যমে সেই নম্বরে দাবি করা অঙ্ক মতো টাকা পাঠিয়ে দিতে। এমনকি বলা হয় তা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আবার যিনি দিচ্ছেন তাকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে।

ফেক অ্যাকাউন্টটি থেকে ম্যাসেজ পাওয়া কয়েকজনের এই বিষয়ে সন্দেহ হলে তারা সরাসরি এসডিপিও অনিল বাবুর সাথে যোগাযোগ করেন। সমস্ত ঘটনাবলি শুনে অনিল কুমার রায় জানান এটা সম্পূর্ণ একটি জালিয়াতি চক্র। ওই অ্যাকাউন্টের সাথে তাঁর কোনো যোগসাজশ নেই। এরপর তিনি তাঁর নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই জালিয়াতি থেকে সাবধান হবার সম্পর্কে একটি পোস্টও করেন।

অনিল বাবু তাঁর নিজস্ব একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখেন,
“কেও আমার নাম করে এবং আমাদের ফটো ব্যবহার করে নকল ফেসবুক একাউন্ট তৈরী করেছে। অনুগ্রহ করে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট গ্রহন করবেন না। এটা আমার ফেসবুক একাউন্ট নয়। এটা জন সাধারণকে প্রতারণার নুতন ধরনের অপরাধ। কোন কারণ দেখিয়ে টাকা চাইতে পারে।অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আমার নামে ফেক একাউন্টের লিংক উপরে দেওয়া হলো।”

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *