করোনায় পরিচিত ডাক্তার কুনাল সরকার, জেনে নিন তার বংশ পরিচয়

টিভির দৌলতে ভীষণ পরিচিত মুখ। কলকাতার মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান, বিশ্ববিশ্রুত কার্ডিয়ো থোরাসিক সার্জন ডাক্তার কুনাল সরকার। এ পর্যন্ত প্রায় দেড়হাজার বাইপাস সার্জারি ও সাতশো ভাল্ভ প্রতিস্থাপন করেছেন। কিন্তু পাশের জন ? তাঁর পরিচয়টা কি ??

এবার চলুন কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম। বিপ্লবের আগুন তখন ধিকিধিকি জ্বলতে শুরু করেছে সেখানে, বাতাসে বারুদের গন্ধ। ইন্ধন যোগাচ্ছিল পশ্চিমে খোলা বঙ্গোপসাগরের বাতাস, ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছিল নিম্নচাপ। শক্তি সঞ্চয় করে তা একদিন আছড়ে পড়লো চট্টগ্রামের বুকে। দিনটি ছিলো ১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল। ‌💥

ইনি তখন তেরো বছরের এক বালক। জন্ম ১৯১৭ সালের মে মাসে চট্টগ্রামের রাউজানে। স্কুল পড়ূয়া মেধাবী ছেলেটি কখন যে তলে তলে বিপ্লবী দের সাথে যোগাযোগ করেছিল টেরই পাননি মা বাবা।
জালালাবাদ পাহাড়তলী তে লড়াইয়ের পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দলীয় সদস্যদের মাঝে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। ধরা পড়ে গেলেন পুলিশের হাতে। অস্ত্রাগার দখল মামলায় অভিযুক্ত হয়ে ছমাস কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা হলো। পাঠিয়ে দেয়া হলো তৎকালীন বার্মার থারওয়াডি কারাগারে।

বিপ্লবী বিভূতিভূষণ সরকারের দ্বিতীয় পুত্র ডাক্তার কুনাল সরকার

দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন তাই সামনের ম্যাট্রিক পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করতে চাইলেন। নাকচ করে দিলো জেল কর্তৃপক্ষ। ছাড়া পেলেন পরীক্ষার ঠিক দু’মাস আগে। বাড়ির লোকজন থেকে স্কুলের মাস্টার মশাই, কেউ আশা করেননি উনি পাশ করবেন। সবাইকে অবাক করে তিনি প্রথম বিভাগে পাশ করেন। এরপর আইএসসি পরীক্ষায় দ্বিতীয়, বিএসসি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম এবং এমএসসিতে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। আইসিএস পরীক্ষার জন্য মনোনীত হন কিন্তু চট্টগ্রাম মামলায় অভিযুক্ত থাকার বৃটিশ সরকার তাঁকে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেয়নি।

মেধাবী মানুষটি সেদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ইংরেজদের গোলামী আর করবেন না। চলে আসেন কলকাতায়। ছোটখাটো ব্যাবসা করতে করতেই মাথায় আসে শিল্পোদ্যোগের কথা। এর মধ্যে বিয়ে করেন দক্ষিণ কলকাতার এক প্রখ্যাত ডাক্তারের কন্যাকে। ১৯৪৩ সালে ছয়হাজার টাকার সামান্য পুঁজি নিয়ে যাদবপুরে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। স্ত্রীর নামানুসারে নাম রাখেন কৃষ্ণা গ্লাস ওয়ার্কস। তাঁর মেধা ও সুদক্ষ পরিচালনায় কৃষ্ণা গ্লাস ওয়ার্কস অচিরে একটি সুবৃহৎ গ্লাস কনটেইনার ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ষাটের দশকের শেষ দিকে এটি ভারতের অন্যতম নেতৃস্থানীয় কাচশিল্পের মর্যাদা লাভ করে। সে সময় যাদবপুর, বারুইপুর ও মুম্বাইতে কৃষ্ণা গ্লাস ফ্যাক্টরির তিনটি শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনটি কারখানায় মোট আড়াই হাজার কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়।

১৯৭২ সালে ২২শে জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৫৫ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন বিপ্লবী থেকে শিল্পোদ্যোগী হওয়া বিভূতিভূষণ সরকার। চার বছর আগে এই মে মাসেই পালন হয়েছে তাঁর জন্ম শতবার্ষিকী।

কিন্তু এনার সাথে ডাক্তারবাবুর সম্পর্কটা কোথায় ? ও হরি বলতে ভুলে গেছি, বিভূতিভূষণের দ্বিতীয় সন্তানই তো ডাক্তার কুনাল সরকার ! ‌ফলেই পরিচয় পেলেন কিনা। কৃতজ্ঞতা: স্বপন সেন

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *