ধর্ম তলায় ধর্না চলছে ,বাড়ছে কর্মী সমর্থকদের ভিড়

দেশ ও এই সময় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : রাজীব কুমারের বাড়ি থেকে বেরিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেছিলেন, “এই ষড়যন্ত্র মানা যায় না। গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার জন্য ধর্ণায় বসছি। এই ধর্ণা সত্যাগ্রহ।” তার পর থেকেই শুরু হয়েছে সেই সত্যাগ্রহ তথা ধর্ণা। ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে সদলবলে এসে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে আটপৌড়ে একটা পাতলা চাদর জড়ানো। সন্ধে সাড়ে আটটা নাগাদ একাধিক নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন ধর্ণা।পাশেই শুরু হয় মঞ্চ বাঁধার প্রস্তুতিও।

প্রথমে অনেকটা সময়ই ঘনঘন মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। জানা যায়, সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক নেতারা ফোন করেছেন, পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে অখিলেশ যাদব, স্ট্যালিন– কে নেই সেই তালিকায়! দেখতে দেখতে ভিড় বাড়ে গোটা মেট্রো চ্যানেল জুড়ে। একটা সময়ের পরে, একের পর এক ম্যাটাডোর বোঝাই মানুষ আসতে শুরু করেন ধর্ণার জায়গায়। আশঙ্কা ছিল, সোমবার সকালে এই ভিড় আরও অনেকটা বাড়বে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ। শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলা যদি অবরুদ্ধ হয়ে যায়, তা হলে গোটা শহর সুষ্ঠু ভাবে চালানো মুশকিল এবং এবং সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো সোমবার সকাল থেকে ধর্মতলার ধন্য মঞ্চে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে কর্মী সমর্থক রা এসে ভিড় জমাতে থাকে। অন্য মঞ্চ থেকেই দিদি জানিয়ে দেন, সোমবারের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানেও তিনি ধর্ণা স্থল থেকেই যোগ দেবেন। এমনকী তিনি ক্যাবিনেট মিটিং এই মঞ্চ থেকেই করবেন। তিনি নির্দেশ দেন, সোমবার বাজেট উপলক্ষে সব দলীর নেতাকে বিধানসভায় উপস্থিত থাকতে। কর্মীদের বলেন, নিজের নিজের জেলা থেকেই প্রতিবাদ-বিক্ষোভের আয়োজন করতে। সকলে ধর্ণামঞ্চে থাকলে বাকি সব কাজ থেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।ধর্ণা চালু হওয়ার পরে মাঝেমধ্যেই হাতে মাইক তুলে নিচ্ছিলেন মমতা। বারবার একটাই কথা নানা ভাবে ঘোষণা করছিলেন, “আমি কোনও কিছুতে ভয় পাই না।” রাত দেড়টা নাগাদ তৈরি হয়ে যায় অনশন মঞ্চ। মুখ্যমন্ত্রী সেখানেই উঠে বসেন। মঞ্চে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মহুয়া মৈত্র, দোলা সেন, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেবাশিস কুমার। মঞ্চেই নিচু গলায় কথা বলছিলেন তাঁরা। কিছু পরে মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্রামের জন্য একটি ছোট খাটের ব্যবস্থা করা হয়। তাতেই কিছু ক্ষণ গা এলিয়ে নেন মমতা।

পরের দিন অর্থাৎ আজ, সোমবার সর্বশক্তি দিয়ে লড়তে হবে যে! তাই হয়তো এই বিশ্রামের ফুরসৎ মিলেছে।ধর্ণার মঞ্চ থেকে মমতা বার্তা দেন, “ভারতের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য লড়তে হবে। বহিরাগত শত্রুদের হারাতে হবে। কোনও রকম ঔদ্ধত্য বরদাস্ত করা যাবে না।” তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন, “আমরা ভীত নই!তবে এ লড়াই শান্তি ও সংহতির পথে করতে হবে।”

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *