অশোকনগর হাসপাতালের সামনে গাড়িতে বসিয়ে মৃতদেহ রেখে চম্পট

ওয়াসিম বারি, উত্তর পরগণা: অশোকনগর হাসপাতালের সামনে থেকে এক মৃত দেহ লোপাটের চেষ্টা। চেষ্টার অভিযোগ উঠল অশোকনগরের এক নেশা মুক্তি কেন্দ্রের শাখা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে । অভিযোগ, শারীরিক অত্যাচার ও ভুল ওষুধ প্রয়োগ করে মেরে ফেলা হয়েছে একজন আবাসিককে এবং সেই দেহ লোপাট করার চেষ্টা হয়।

সূত্রের খবর, গত ১৯ শে ডিসেম্বর বুধবার বাদুড়িয়া থানার অন্তর্গত বাগজোলা গ্রাম নিবাসী নির্মল বিশ্বাস (৩৪) নামে একজন নেশাগ্রস্ত মানুষকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেবার আশায় তার পরিবারের লোকেরা অশোকনগরের একটি নেশা মুক্তি কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করে। নির্মল বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঐ নেশা মুক্তি কেন্দ্রের একটি শাখা কেন্দ্র আমাডাঙা থানার অন্তর্গত গাদামারা হাট অঞ্চলে ভর্তি করেন। ভর্তির পর থেকে পরিবারের লোকজনের সাথে আর নির্মলকে দেখা করবার কোনো ব্যবস্থা করা হয় নি। যতবারই পরিবারের তরফ থেকে দেখা করতে চাওয়া হয়েছে ততবারই পরিবারকে নেশামুক্তি কেন্দ্রের তরফ থেকে বলা হয় নির্মল সাথে ৪০-৪৫ দিন আগে কোনোমতেই দেখা করা যাবেনা। সাথে বলা হয়, নির্মল সুস্থ এবং স্বাভাবিক রয়েছে। শনিবার সকালে পরিবারের তরফ থেকে নির্মলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে খোঁজ নিলেও একই কথা জানানো হয়। এমন অবস্থায় গতকালই, শনিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ নির্মলের পরিবারের কাছে নেশা মুক্তি কেন্দ্রের তরফ থেকে ফোন করে জানানো হয় যে নির্মল অসুস্থ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে, চিকিৎসা চলছে। পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ নির্মলকে দেখতে হাসপাতালের উদ্দেশ্য রওনা দেন। কিছু সময় পর পরিবারকে ঐ কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয়, নির্মল মারা গেছে। পরিবারের সদস্যরা যখন হাসপাতালে এসে উপস্থিত হন তখন কেন্দ্রের তরফ থেকে নির্মলের মৃতদেহ হাতে পাবার জন্য সময় চাওয়া হয়। অপেক্ষারত অবস্থায় মৃত নির্মলের ভাইপো একটি গাড়ির মধ্যে নির্মলকে চোখ বন্ধ অবস্থায় বসে থাকতে দেখতে পান।

লোক জানাজানি হতেই সুযোগ বুঝে মৃতদেহ সমেত গাড়িটি চম্পট দেয়। পরে জানা যায়, নির্মলকে হাসপাতালে আনবার পূর্বেই নির্মল মারা যায়। মৃতদেহটিকে হাসপাতালে ঢোকানো হয়নি, হাসপাতাল চত্বরেই গাড়ির মধ্যে বসিয়ে রাখা হয়েছিল যাতে কারোর সন্দেহ না হয়। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, মৃতদেহ লোপাট করতে চেয়েছিল ওরা। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মৃত নির্মল বিশ্বাস। এছাড়াও দীর্ঘদিন ভুল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে তার দেহে। সেজন্যই জীবিত নির্মলের সাথে পরিবারের দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে মনে করছেন তারা।

সেই সাথে পরিবারের সদস্যরা ঐ নেশা মুক্তি সংস্থা ও তাঁর মালিক সঞ্জয় দে ‘র নামে আমডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গাড়িটিকে কিছু সময় পরেই আটক করে। এই ঘটনায় বাপি দে নামে এক জন কে গ্রেফতার করেছে, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।আজ ধৃত কে ৭দিনের পুলিশ হেফাজতে চেয়ে বারাসাত আদালতে তোলা হয়েছে।

দেখুন গাড়িতে বসা অবস্থায় মৃতদেহের এক্সক্লুসিভ ভিডিও:

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *