নবদ্বীপের আবাস যোজনা দুর্নীতিকান্ডে নয়া মোড়, অভিযোগ দায়ের জেলাশাসকের কাছে

দেশ ও এই সময় নিউজ ডেস্ক : নদিয়ার নবদ্বীপে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাকে ঘিরে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ এবার জমা পড়ল জেলাশাসক সুমিত গুপ্তর কাছে। আপাতত এই ঘটনাকে নিয়ে তোলপাড় নবদ্বীপ জুড়ে।

অভিযোগ, নবদ্বীপ শহরের ১৫ নং ওয়ার্ডস্থিত ১৭ডি ব্যানার্জি পাড়া রোড এর বাড়িটিকে ঘিরে। নথি মোতাবেক, উক্ত বাড়ির দুজন বাসিন্দা, শ্রী নিমাই ঘোষ এবং শ্রীমতী পার্বতী ঘোষ। নিমাই ঘোষ পেশায় একজন তাঁতশিল্পী, বাড়িতেই তার একটি তাঁত মেশিন আছে যার সাহায্যয় তিনি শাড়ী তৈরি করেন। অন্যদিকে, পার্বতীদেবী পেশায় একজন গৃহপরিচারিকা। এলাকার কয়েকটি বাড়িতে তিনি কাজ করেন। দুজনে একইসাথে একইবাড়িতে থাকেন। বাড়িতে রয়েছে ২টি পাকা ঘর, শৌচাগার, কালার টিভি – সবকিছুই।অথচ, রেশনকার্ড এ এই দুজন-কে দুটি আলাদা পরিবারভুক্ত বলে দেখানো হয়েছে। নিমাই ঘোষের আছে অন্ত্যোদয় কার্ড এবং পার্বতী ঘোষের PHH কার্ড। প্রতিটি কার্ড এই যার নামে কার্ড, তিনিই পরিবারপ্রধান!

এখানেই শেষ নয়, অভিযোগ এই ভিন্ন ভিন্ন পরিবারভুক্তি কে ঢাল করেই রয়েছে আবাস যোজনার অন্য গল্প! নথি অনুযায়ী ১৭ডি ব্যানার্জিপাড়া রোডস্থিত পাকা বাড়িটির মালিক নিমাই ঘোষ। এদিকে, পার্বতী ঘোষ-কে গৃহহীন দেখিয়ে তার নামে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বরাদ্দ হয়েছে নতুন বাড়ি! অর্থাৎ, এখন তিনি মাত্র ২৫০০০ টাকার বিনিময়ে নিমাই ঘোষ এর জমিতেই একটি নতুন বাড়ি বানাবেন!

সত্যিই কি তারা আলাদা পরিবার? একটু খুঁটিয়ে দেখলেই তা প্রকাশ পায়। ঐ বাড়িতে একটিই ইলেকট্রিক মিটার কানেকশন রয়েছে নিমাইবাবুর নামে, গ্যাসের কানেকশন ও একটিই। অর্থাৎ তাদের থাকা ও রান্নার ব্যবস্থা একসাথেই! স্থানীয় লোকমুখেও জানা যাচ্ছে, সম্পর্কয় তারা মামা-ভাগ্নী।তাহলে রেশনকার্ড এ কিভাবে হলো এই পৃথকীকরণ? এও কি সরকারি অর্থয় দুর্নীতি নয়?

নদিয়ার জেলাশাসকের দপ্তর থেকে জানা গিয়েছে, অভিযোগ পেয়ে তারা নবদ্বীপ পৌরসভার রিপোর্ট তলব করেছেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঝুলি থেকে বেরোচ্ছে আরও বেড়াল

নবদ্বীপে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ এর ঘটনায় এবার উঠে এলো আরও এক ভয়ানক কেলেঙ্কারি। ইতিপূর্বে ১৫ নং ওয়ার্ড এর বাসিন্দা নিমাই ঘোষ এর ২ কামরা বিশিষ্ট বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তাকে আবাস যোজনায় বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ এসেছিল।এবারে আরও চমকপ্রদ তথ্য। ১৪ নং ওয়ার্ড এর আমপুলিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা শিবু মিত্র, পেশায় প্রাক্তন সমরকর্মী। তার নিজস্ব দোতলা বাড়ি আছে, মাস গেলে পেনশন ও পান। অথচ অভিযোগ, তার স্ত্রী অঞ্জলি মিত্র এর নামে পাশের ১৫ নং ওয়ার্ড এ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি বানানো হচ্ছে।

কিভাবে ঘটল এই অনিয়ম? স্বামীর ২ তলা বাড়ি থাকতেও স্ত্রী কে আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়া হল কিভাবে? প্রাক্তন সমরকর্মী, যিনি কিনা সারাজীবন দেশের জন্য লড়াই করলেন, তার স্ত্রী-ই কিনা দুর্নীতি তে জড়িত?? কে সুপারিশ করলো তার নাম??

ঘটনার বিশদ তদন্তে নেমে দেখা যায়, ১৫ নং ওয়ার্ড এর ভারত সেবাশ্রম সংঘ এলাকার একটি পুকুর বুজিয়ে তৈরি জমিতে বানানো হচ্ছে অঞ্জলি মিত্রর বাড়ি। ইতিমধ্যে বাড়ির অর্ধেক কাজ হয়েও গেছে।
তবে কি এভাবেই চলবে অনিয়ম? প্রতিদিন বেরোবে ঝুলি থেকে নতুন বিড়াল?

এই বিষয়ে ঐ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্মল কান্তি দেব এবং পৌরপ্রধান বিমল কৃষ্ণ সাহাকে ফোন করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *