এভারেস্টজয়ী দেবরাজ দত্তের নেতৃত্বে একদল পর্বতারোহী পড়ে থাকা ৩২২৫ কেজি জঞ্জাল সাফাই করলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দূষণ থেকে বাদ যাচ্ছে না পাহাড়ও। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া জঞ্জাল চিন্তা বাড়িয়েছে সবার। ট্রেকিং ও পর্যটকদের দাপটে সান্দাকফু–ফালুট এলাকায় দূষণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। হিমালয়ের এই এলাকার রাস্তায়, জঙ্গলে বেড়েই চলছে জঞ্জাল। সারা বছর দেশের বিভিন্ন পর্বতারোহী সংগঠন পরিবেশ রক্ষার জন্য হিমালয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে সাফাইয়ের কাজ করে থাকে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ওএনজিসির আর্থিক সহায়তায় এবার এগিয়ে এল ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফেডারেশন (‌আইএমএফ)‌। এভারেস্টজয়ী দেবরাজ দত্তের নেতৃত্বে একদল পর্বতারোহী সান্দাকফু–ফালুট যাওয়ার এলাকায় পড়ে থাকা ৩২২৫ কেজি জঞ্জাল সাফাই করলেন। চারটি ট্রাকে ২৪৮টি ব্যাগে জঞ্জাল ভরে শিলিগুড়িতে নামিয়ে এনে পুরসভার হাতে তুলে দেন।
শিলিগুড়ি থেকে ৭ নভেম্বর ১৬ জনের দলটি দুটি ভাগে সান্দাকফু–ফালুট দিকে যাত্রা শুরু করে। অবশ্য দলে ওই ১৬ জন ছাড়াও স্থানীয় বেশকিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যও ছিলেন। প্রথম দলটি মানেভঞ্জন থেকে চিত্রে, টুমলিং, মেখমা, গৈরিবাস হয়ে কৈয়াকাটায় পৌঁছয়। ওই দলটি যাওয়ার সময় যা নোংরা পাবে তা পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট স্থানে জমিয়ে রাখে। দ্বিতীয় দলটি গাড়িতে করে ফালুটে যায়। তারাও জঞ্জাল পরিষ্কার করে জমিয়ে রেখে কৈয়াকাটায় চলে আসে। শনিবার সন্ধেয় গোটা দলটি শিলিগুড়িতে ফেরার সময় ৪টি ট্রাকে করে জঞ্জাল নামিয়ে আনে। পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষার জন্য জঞ্জাল সাফাই করে পাহাড় থেকে নিচে নামিয়ে আনার পদক্ষেপ এই প্রথম বলে দাবি করেন দেবরাজ দত্ত। তিনি জানান, ‘‌এর আগে জঞ্জাল সাফাই করে পাহাড়েই রেখে দেওয়া হয়েছিল। এবার আমরা ঠিক করেছিলাম সঠিক জায়গায় জঞ্জাল ফেলব। এর জন্য শিলিগুড়ি পুরসভাকে আমরা অনুরোধ করেছিলাম। তারা সহযোগিতা করেছেন।’ তিনি আরও জানান, ‘‌ভারত সরকারের ক্লিন হিমালয় প্রজেক্টে আমরা সান্দাকফু–ফালুট এলাকা বেছে নিয়েছি সাফাইয়ের জন্য।’‌
সান্দাকফু–ফালুট ট্রেকিংয়ের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে খুব আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের খেয়াল থাকে না তাঁদের ফেলা–দেওয়া জঞ্জাল পরিবেশের কী ক্ষতি হতে পারে। পর্যটকেদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে বলে
মনে করেন দেবরাজ।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *