বাবরি ধ্বংসের ২৬ বছর

অনেকেই বলেন ভারতের ইতিহাসে অন্ধকার তম দিন ৬ ডিসেম্বর। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে গিয়েছে বলে থাকেন অনেকেই। এই সময় থেকেই শুরু হয় নতুন এক রাজনৈতিক লড়াই। যে লড়াই অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের নয়। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে নয়। কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়ার লড়াই নয়। যে লড়াই মুদ্রাস্ফীতি কর্মহীনতা নিয়ে নয় । এসব ইস্যু পিছনে ফেলে সামনে চলে আসে গোটা ভারত বিভক্ত হয়ে পড়ে এই প্রশ্নে, অযোধ্যার বিতর্কিত স্থানে মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির তৈরি হবে কিনা তাই নিয়েই চলতে থাকে উত্তপ্ত লড়াই।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে এরপরই গোটা দেশে বিজেপি শক্তি বৃদ্ধি হয়। বলা হয় , বিজেপির সর্বভারতীয় দল হয়ে ওঠে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর এর পরবর্তী ঘটনার পরেই। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৬ বছর পূর্তি হয়েছে।

এখনো রাম মন্দির নির্মাণ হয়নি, এখনও রামমন্দির নিয়ে উত্তেজনা কমেনি। বলা যায় নতুন করে রামমন্দির আবেগ আবার ছড়িয়ে পড়ছে গোটা দেশে। ২৫ নভেম্বর অযোধ্যায় ধর্ম মহাসভার ডাক দেয় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ আরো কয়েকটি সংগঠন। সেই সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ে। বিজেপির সব নেতাই রামমন্দির নির্মাণ এর সপক্ষে সওয়াল করতে থাকেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও রামমন্দির না হওয়ার জন্য দায়ী করেন কংগ্রেসকে।

রাম মন্দিরের পাশাপাশি গোরক্ষক নিয়েও গোটা দেশে বহাল রয়েছে উত্তেজনা । রাজস্থান মহারাষ্ট্র ঝাড়খণ্ডে স্বঘোষিত গোরক্ষকরা আইন নিজের হাতে তুলে নেন । একের পর এক মৃত্যু হয়। সবকিছু ছাপিয়ে যায় বুলন্দ শহরের ঘটনা। গোরক্ষকদের বিক্ষোভে মৃত্যু হয় এক পুলিশ অফিসারের। পরিস্থিতি নিয়ে যখন উদ্যেগে প্রকাশ করেছেন সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতা, নীরব তখন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রামমন্দির ধর্ম যত থাকবে মানুষ যতই সুবিধা হবে রাজনৈতিক দলের নেতাদের এমনি বিশেষজ্ঞদের।

৬ ডিসেম্বর, ২০১৮

দেশ ও এই সময়

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *