দলের একাংশের প্রতি ক্ষোভ ধীমান রায়ের, তবুও দলের পাশে থাকার বার্তা

“অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রে আমিই একমাত্র ব্যক্তি যে ১৭ জনকে নিয়ে দল করা শুরু
করেছিল। তার মধ্যে দু’জন (একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী পূর্ণিমা ভট্টাচার্য্য এবং অঞ্জলি রায়) মারা গেছেন। সে সময় ১৭ জন কে নিয়ে মিছিল করেছিলাম, তখন তারা অনেকে কংগ্রেসের মিটিংয়ে গেছে টিটকারি, কটুক্তি করতে করতে। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সবসময় পাশে থেকেছি। দলের প্রতি আনুগত্য মেনেই দলের পাশে থাকবো । আজকে দেখলাম যারা দলকে কুরে-কুরে শেষ করেছিল তারাই এখন নেতা । আমি হয়ে গেলাম অপাংক্তেয়।”

সেই সাথে তিনি জানান, “যাঁরা দুর্দিনে মমতার বিরোধিতা করেছে, তাঁরাই দলনেত্রীকে ভুল বুঝিয়ে আমার প্রার্থীপদ কেড়ে নিয়েছে। এভাবে সরিয়ে দেওয়ায় দুঃখ পেয়েছি আমি।” এরপরই প্রার্থী পদ কেড়ে নেওয়ার পিছনে দলের একাংশের দিকে আঙুল তোলেন ধীমান রায়। বলেন,“দলের সভাতে তাঁরা নাকি আগে থেকেই আমার প্রার্থী পদের বিরোধিতা করেছিলেন । সেই সঙ্গে তাঁরা নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানিয়েছিলেন, আমি দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁরা কোনও কাজ করবেন না । তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিচার বিবেচনা করে প্রার্থী বদল করলেন । আমি এটুকু বলতে পারি যাঁদের জায়গা করে দিলাম,তাঁরাই আজ মিথ্যাচার করছে আমার বিরুদ্ধে৷” অভিমানের সুরে আরও বলেন,”মমতা বন্দোপাধ্যায় একজন লড়াকু মহিলা । তাঁর সঙ্গে থেকে অনেকেই তাঁকে আঘাত করেছেন । খোঁজ নিয়ে দেখা যাবে,তাঁরা কেউই তৃণমূল দলটা প্রথম থেকে করেননি । বরং দলের কীভাবে ক্ষতি করা যায় সেই চেষ্টা-ই করে গিয়েছেন৷” ধীমান বলেন, ‘‘আমি দলবদলুদের দলে নেই। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে আছি। সেই দুর্দিনে যাঁরা মমতাকে কটাক্ষ করেছেন, বিরোধিতা করেছেন আজ সুদিনে তাঁরাই দলের নেতা, বিভিন্ন পদে বসে আছেন। ”



অশোকনগরের দু’বারের বিধায়ক, তৃণমূল নেতা ধীমান রায়। দলের প্রার্থী তালিকায় নাম ঘোষণার প্রায় ১৪-১৫ দিন পর তাঁকে বাদ দিয়ে প্রার্থী করা হয় নারায়ণ গোস্বামীকে। ইতিমধ্যে ধীমান রায়কে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ দেওয়ার লিখন সেরে ফেলেন তৃণমূল কর্মীরা। প্রচারে নেমে পড়েন ধীমান রায়। হঠাৎ একদিন প্রচারের সময় তিনি জানতে পারেন তাঁকে বাদ দিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে জেলাপরিষদ কর্মাধ্যক্ষ তথা জেলার নেতা নারায়ণ গোস্বামীকে। কিন্তু দল তাঁকে এই বিষয়ে কিছুই জানায়নি। শুক্রবার এই খবর জানার অপমানিত তৃণমূল বিধায়ক দু’দিন নীরব ছিলেন। তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।

এরপর তিনি জানতে পারেন অশোকনগরে দলীয় কর্মীসভায় দলের নেতারা দাবি করছেন, তিনি নাকি অসুস্থতার কথা জানিয়ে দলকে চিঠি লিখে প্রার্থী হতে চাননি। দলের নেতাদের এই মিথ্যা দাবিকে মেনে নিতে পারেননি তিনি। তাই সোমবার নিজের দফতরে সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন ধীমান রায়। সোমবার দুপুরে প্রাক্তন বিধায়কের অফিসে বসে সাংবাদিক সম্মেলনে এমন আক্ষেপ শোনা গেল অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক ধীমান রায়ের গলায়। “যাঁরা এসব বলছে,তাঁরা মিথ্যা কথা বলছে ও বাড়িয়ে বলছে । এমন কোনও চিঠির প্রমান তাঁরা দেখাতে পারবেন না ৷” তিনি আরো বলেন, একটি ভিডিওতে দেখলাম আমি নাকি প্রার্থী হবার জন্য আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছিলাম, কিন্তু এটাসর্বেব মিথ্যা। দলনেত্রী প্রথমে আমার উপর আস্থা রেখে আমাকে এই কেন্দ্রের প্রার্থী করেছিলেন। পরবর্তীতে আবার প্রার্থী বদল করেন। উল্লেখ্য অশোকনগর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী করা হয়েছে নারায়ণ গোস্বামীকে।

বাম জমানায় অশোকনগর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা করেছেন ধীমান রায়। ফলে অপমানিত এই নেতার গলায় এদিন ছিল অভিমানের সুর। এভাবে সরানোয় তিনি খুব দুঃখ পেয়েছেন। তবে আমি এলাকার ভূমিপুত্র, বহিরাগত নই। অশোকনগরের মানুষ এতদিন আমাকে আগলে রেখেছেন। আজও ভালোবাসেন। অমি ১০ বছরে অশোকনগরে যথাসাধ্য উন্নয়ন করেছি।’

ধীমান বলেন, “দলনেত্রী ও দলের কর্মী, সমর্থক এবং অশোকনগরবাসীর কাছ থেকে প্রচুর স্নেহ, ভালোবাসা পেয়েছি। তার জন্য দল এবং সকলের কাছে প্রচুর খণী। এই ঘটনায় আমি খুবই আঘাত পেয়েছি এবং মর্মাহত। আমি জীবনে কোনও অসৎ কাজ করিনি। আমি চেষ্টা করেছি যে কাজটা একজন কর্মীর করা উচিত তা করার। তথাপি আমি বলব, আমি ভোরে ঘুম থেকে উঠেও তৃণমূল, সারাদিন তৃণমূল, রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় তৃণমূল। আমার পরিচয় আমি তৃণমূল। ”

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *