টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে যাচ্ছেন অর্জুন সিং

দেশ ও এই সময় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও ভাটপাড়া পৌরসভার পৌর প্রধান অর্জুন সিং আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি’তে যোগদান করতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি বিজেপি’তে যোগদান করতে পারেন, এমন খবরই পাওয়া যাচ্ছে। শুধু অর্জুন সিংই নয়, এই নেতার দাবি তাঁর সঙ্গে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের প্রায় ৫০ জন কাউন্সিলর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি’তে যোগদান করতে পারেন। তৃণমূল কংগ্রেসের এই গুরুত্বপূর্ণ নেতা বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। এই নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। যতদূর জানা গিয়েছিল, অর্জুন সিংকে লোকসভা ভোটের পর রাজ্য মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে, এমনও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। যদিও লোকসভা ভোটের প্রার্থী যেদিন ঘোষণা করা হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে তার আগের দিন অর্জুন সিং দিল্লি যান এবং পরের দিন ফিরে আসেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমে নবান্নে, পরে কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠকও করেন। সবাই ভেবেছিলেন নিশ্চয়ই কোনও রফাসূত্র মিলেছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি অন্য । বুধবার অর্জুন সিং ফের দিল্লি যান। অর্জুন সিং এর আগে ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছিলেন, “আমাকেই যদি প্রার্থীকে জেতাতে হয়, তাহলে আমি প্রার্থী নই কেন? আর কতবার অন্যকে জেতাব। মাঠে থাকেন না, আর আমাকে জেতাতে হয়”। মুকুল রায় তৃণমূলে থাকাকালীন প্রথমদিকে অর্জুনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু পরে মুকুল এবং অর্জুন দুই মেরুর বাসিন্দা হয়ে যান। অর্জুন চেয়েছিলেন সাংসদ হতে। ২০১৪তেও অর্জুন প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন লোকসভায়। সেবার নাকি মুকুল রায়ের জন্য সম্ভব হয়নি। তারপর থেকে মুকুল এবং অর্জুনের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। কলকাতা থেকে নিজের বাড়ি যাওয়ার পথে অর্জুনের গাড়ি পুলিশ আটকায়। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক গণ্ডগোল হয়। সেই সময় অর্জুন সিংয়ের ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করেছিল, তাঁকে আটকাতে মুকুল ছক কষছে। এরই মধ্যে একটি দৈনিক এবং আর একটি হিন্দি পত্রিকা শুরু করেন অর্জুন। ভেবেছিলেন একদিকে সংবাদমাধ্যম অন্যদিকে নিজের রাজনৈতিক সাংগঠনিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ২০১৯এ তিনি লোকসভার প্রার্থী হতে পারবেন। সেভাবেই তিনি চলছিলেন। এরপর মুকুল রায় তৃণমূল ত্যাগ করার পর অর্জুন সিংয়ের নিরাপত্তা বহুগুণ বেড়ে যায়। জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয় অর্জুন সিংকে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ধিত কোর কমিটির বৈঠকে নেতাজি ইন্ডোরে অর্জুনকে তৃণমূল সুপ্রিমোর ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। তবে, তার আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে খবর আসছিল, অর্জুন বিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। দলের স্বার্থে হয়তো কড়া বার্তা দেওয়া হয়নি। কিন্তু এবার আর অর্জুন প্রার্থী হওয়ার জন্য অনমনীয় গ্রহণ করেন। বোঝানো হয়েছিল তৃণমূলের কংগ্রেসের শীর্ষ স্তর থেকে। কিন্তু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেই কিংবা বিজেপি’র চাপের কাছেই নতিস্বীকার করেই হোক, এই ডাকাবুকো নেতা বিজেপি’তে এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে উত্তর ২৪ পরগনার এই নেতা যদি সত্যিই বিজেপি’তে আজ যোগদান করেন, তাহলে নিঃসন্দেহে এটা বিজেপি’র বড়সড় মাস্টার স্ট্রোক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অর্জুন বিজেপি’তে যোগদান করলে, শুধু বারাকপুর লোকসভা নয়, পার্শ্ববর্তী লোকসভাতে কিছুটা হলেও এর প্রভাব পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
যদি তৃণমূল এই খবরকে ভিত্তিহীন বলেছে। অর্জুন ঘনিষ্ঠরাদাবি করেছিলেন ,রাজ্য সভায় দীনেশ ত্রিবেদীকে পাঠিয়ে অর্জুন সিংকে টিকিট দেওয়া হোক, কিন্তু তৃণমূল সেকথা মানেনি। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন দু-একজন লোভী টিকিটের জন্য এদিক-ওদিক যেত পারেন, তাতে তৃণমূলের কিছু যায় আসে না। কারও কারও একটু বেশি লোভ আছে। এভাবেই নাম না করে একসঙ্গে অর্জুনকে বার্তা এবং মুক্তির পথ খুলে দিয়েছিল তৃণমূল।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *