“দিদি” মুখ্যমন্ত্রীর কাছে “ভাই” কেষ্টর আবদার — আরও উন্নয়ণ

ভাস্কর মন্ডল, বীরভূম : তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুসম্পর্ক সর্বজনবিদিত। দিদি’কে কাছে পেয়ে জেলার উন্নয়নের জন্য সারাক্ষণ কিছু না কিছু দাবি করে গেলেন অনুব্রত। কখনও বিরক্ত হয়ে, কখনও আবার ধমক দিয়ে, কখনও বা ভালোবেসে ভাইয়ের প্রায় সব আবদারই মেটালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটা সময়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে হয়, আমাকে বিক্রি করে দিলেও আর কিছু পাবে না। কখনও বা ভাই অনুব্রত কে থামিয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, এত টাকা আমি পাব কোথায়? মাঝেমধ্যেই ভাইকে কড়া ধমক দিলেও শেষে সচিবদের তাঁর দাবিগুলি খতিয়ে দেখতে বলেছেন।বুধবার বোলপুরে প্রশাসনিক সভায় ফের সামনে এল অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহের সম্পর্ক। বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে নানান বিতর্কিত মন্তব্য করে অনুব্রতবাবু সকলের তোপের মুখে পড়েছেন। সেই সময় ঢাল হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দিদির মতোই আগলেছেন। অনেক সময় তাঁর সমালোচকদের পাল্টা সমালোচনা করেছেন।গত বছর প্রসাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চে অনুব্রতকে নাদেখে মঞ্চে ডেকে নেন। এরপর জেলার উন্নয়ন নিয়ে তাঁর কাছে নানা আব্দার করেছিলেন অনুব্রতবাবু। কখনও ধমকে, কখনও বা ভালোবাসার সুরে তাঁর কথা রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও কার্যত তার পুনরাবৃত্তি হয়।

এদিন সভার প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের জন্য সেচ দপ্তর থেকে কী কী করা হয়েছে, তা আধিকারিকদের তুলে ধরতে বলেন। ময়ূরাক্ষী ক্যানেল সংস্কার করে জেলার বেশ কিছু ব্লকের চাষিদের ব্যাপক উন্নয়নের কথা যখন আধিকারিক তুলে ধরছেন তখনই মাঝ থেকে জেলার অন্যান্য নদীগুলির সংস্কারের দাবি জানান অনুব্রতবাবু। তা শুনে মুখ্যমন্ত্রী বলে ওঠেন, অত টাকা পাব কোথা থেকে? এরপরেই বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে রাজ্য সরকারের কত টাকা খরচ হচ্ছে তুলে ধরে তাঁকে থামিয়ে দেন।প্রথমে সুবিধা করতে না পারলেও থেমে থাকেননি ভাই কেষ্ট। এলাকার রাস্তা নিয়ে যখন বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে, তখন বেশ কয়েকটি রাস্তা তৈরির দাবি জানান জেলা সভাপতি। প্রিয় কেষ্টর দ্বিতীয় আব্দার ফেলতে পারেনি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে বিষয়টি দেখে নেওয়ার বার্তা দেন। এরপরেই নলহাটি থেকে মোড়গ্রাম পর্যন্ত জাতীয় সড়কের বেহাল অবস্থার কথা সামনে আসে।

তখনও অনুব্রতবাবু নিজের মতো করে প্রস্তাব দেন। রাজ্যের আর্থিক অবস্থা নিয়ে চিন্তিত মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক দিয়েছি, এর বেশি কিছু দিতে পারব না। তখন ছোট ভাইয়ের মতো বড়দিদির কাছে তারাপীঠের অদূরে দ্বারকা নদের উপর দু’টি চেক ড্যাম করার মিনতি শুরু করেন জেলা সভাপতি। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে রাজি না হলেও কেষ্টর আব্দারের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি দেখে নেওয়ার জন্য সচিবকে নির্দেশ দেন।সভা শেষে উচ্চ পদস্থ আমলাদের একাংশ অনুব্রত মণ্ডলকে বলে ওঠেন, আপনিই তো জেলার মুখ্যমন্ত্রী। আপনি আব্দার করবেন না তো, কে করবে! তখনই বিনয়ী কেষ্ট বলেন, যা হচ্ছে সবই দিদির জন্য। তিনিই উন্নয়নের কাণ্ডারি।তবে শুধু উন্নয়নের জন্য আব্দারই নয়, বেশ কিছু তথ্যও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *