মহদীপুর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমান্ত দিয়ে বন্ধ রয়েছে পাথর রপ্তানি, সমস্যায় ব্যবসায়ীরা

দেবু সিংহ মালদা ৩০ এপ্রিল : প্রায় এক মাস ধরে মহদীপুর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমান্ত দিয়ে বন্ধ রয়েছে পাথর রপ্তানি । আর এতেই চরম সমস্যায় পড়েছেন মহদীপুর এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবসায়ীরা । ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ওই সংগঠনের রপ্তানিকারকেরা।

তাঁদের বক্তব্য, ভোটের কথা বলে বাংলাদেশ পাথর রপ্তানির কাজ প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের জন্য পাথর রপ্তানি করতে মানা করা হয়েছিল। ২৩ এপ্রিল নির্বাচন পেরিয়ে গেলেও এখনো পাথর রপ্তানি করার কোনো অনুমতি দেওয়া হয় নি। এমনকি ইংরেজবাজার থানার পুলিশের পক্ষ থেকেও পাথর রপ্তানিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে ।অবিলম্বে পাথর রপ্তানির চালু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কথা জানিয়েছেন ওই সংগঠনের শতাধিক ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে ইংরেজবাজার থানার মহদিপুর এলাকায় এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের শতাধিক সদস্যরা একটি বৈঠক করেন । সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় দ্রুত পাথর রপ্তানির অনুমতি প্রশাসন না দিলে তারা অন্যান্য পণ্য সামগ্রী রপ্তানি বন্ধ রাখবে এবং বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করবে।

মহদীপুর এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক তপন কুমার দাস জানিয়েছেন , বাংলাদেশের পদ্মা সেতুর তৈরীর কাজ চলছে। সে ক্ষেত্রে ভারত থেকে প্রতিনিয়ত পাথর রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিদিন ২০০’র বেশি লরি বাংলাদেশ পাথর বোঝাই করে রপ্তানি করা হয়। প্রতিদিন এক লক্ষ ১৭ হাজার ডলারেরও বেশি ব্যবসা হয় । যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮২ লক্ষ টাকা। এক্ষেত্রে ভারত সরকারও যেমন বিদেশী মুদ্রা অর্জন করে। তেমনি এই ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত লরি মালিক, লরি চালক, শ্রমিক সহ বহু মানুষ রুজি রোজগারের করে স্বনির্ভর রয়েছেন।

তপনবাবুর অভিযোগ, হিলি, চ্যাংড়াবান্ধা, বেনাপোল-পেট্রাপোল এইসব ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে নিয়ম করেই পাথর রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু মালদার মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে পাথর রপ্তানি করতে দেওয়া হচ্ছে না । বিশেষ করে ইংরেজবাজার থানার পুলিশের পক্ষ থেকেই নানা অজুহাত দেখিয়ে রপ্তানিতে ব্যাঘাত ঘটানো হচ্ছে। এপ্রিল মাসের শুরুতেই পাথর রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয় পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে। নির্বাচনের কথা বলেই এই রপ্তানি কাজ বন্ধ করা হয়েছিল । কিন্তু নির্বাচন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও পাথর রপ্তানি করতে দিচ্ছে না । এরকম চলতে থাকলে আমাদের আন্দোলনে নামা ছাড়া কোন পথ নেই।

মহদিপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধক্ষ্য মোহাম্মদ ফৈয়জুল হক জানিয়েছেন, নির্বাচনের জন্য জাতীয় সড়কে যানজট এড়াতে পাথর রপ্তানি বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল । কিন্তু নির্বাচন পেরিয়ে গেলে পাথর রপ্তানি করতে দেওয়া হচ্ছে না। এরকম চলতে থাকায় চরম লোকসানের মধ্যে পড়তে হচ্ছে রপ্তানিকারকদের। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাই পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত রপ্তানিতে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হোক ।

ইংরেজবাজার থানার আইসি শান্তনু মিত্র জানিয়েছেন, রপ্তানিকারকদের তরফ থেকে যা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। রপ্তানিতে পুলিশ কেন হস্তক্ষেপ করতে যাবে । এখানে পুলিশের কোন ভূমিকাই নেই । কেন তারা এরকম কথা বলছে বুঝতে পারছি না । পুলিশ পাথর রপ্তানির বিষয়টি কখনোই দেখে না । তবে জাতীয় সড়কে যাতে ট্রাফিক সমস্যা না হয় সেদিকে নজরদারি পুলিশের অবশ্যই থাকবে । এর বাইরে পাথর রপ্তানি কিভাবে হবে সেটা রপ্তানিকারকদের বিষয় । এব্যাপারে কিছুু বলতে পারব না।

ছবি —— পাথর রপ্তানির দাবি নিয়ে এক্সপোটার্সদের মিটিং চলছে মহদিপুরে।

অন্যদিকে মহদীপুর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমান্তে রাস্তায় সারিবদ্ধ লরি আটকে রয়েছে।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *