শিবের গাজনে মাতল বাঁকুড়া

অভিরুদগত মাজি, বাঁকুড়া:’গাজন’ শব্দের উৎপত্তি নিয়ে নানা মুনির নানা মত। সে যাই হোক, বাংলা বছরের শেষ তিনটি দিন শিবের গাজনে মাতেন বাংলা তথা রাঢ় বাংলার মানুষ। বাঁকুড়ার গাজন তার মধ্যে অন্যতম। এই জেলায় বেশ কয়েকটি প্রাচীন শিব মন্দির রয়েছে।

এগুলোর মধ্যে এক্তেশ্বরের শিব মন্দির অন্যতম। গাজন উপলক্ষ্যে সেখানে এসে জড়ো হয় জেলার বিভিন্ন প্রান্তের গাজন সন্ন্যাসীর দল। সন্ধ্যা নামলেই শিব মন্দিরের পাশেই মেলায় ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। দ্বারকেশ্বর নদীর তীরে শতাব্দী প্রাচীন কাল ধরে ওখানকার গাজনে মানুষের উৎসাহ চোখে পড়ে। অন্যদিকে চৈত্র সংক্রান্তিতে গাজন উৎসবে এবছর বহু মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে তালডাংরার শিয়ালবাথান-রাধামোহনপুর গ্রামে। সেখানে গাজন উপলক্ষে রবিবার বিকেলে চড়ক ঘোরা দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন বারমেশ্যা, পড়ারবাঁধ, তালডাংরা সহ পাশাপাশি প্রায় পনেরোটি গ্রামের মানুষজন।

শিয়ালবাথান গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত ঘোষাল বলেন, ” বহু কাল থেকে জয়পন্ডা নদীর তীরে এখানে শিবের গাজন চলে আসছে। আধুনিকতার যুগেও এখানকার গাজনে চড়ক ঘোরা এলাকার মানুষের অন্যতম আকর্ষণ।” বিষ্ণুপুরের ষাড়েশ্বর মন্দির, বহুলাড়া মন্দিরে কয়েকশো বছরের পুরনো গাজন উৎসবে স্থানীয় পুকুর থেকে বহু ভক্তের দন্ডী কেটে মানত পুরণ করার দৃশ্যটি এবছরও লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়াও বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের পাঁচাল, ওন্দা ব্লকের তেলিবেড়িয়া, বড়জোড়া ব্লকের জগন্নাথপুর এবং হিড়বাঁধের মশিয়াড়া গ্রামের শিবের গাজন উপলক্ষে বহু গাজন সন্ন্যাসীর বানফোড় এবং সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

দেশ ও এই সময়

24×7 NATIONAL NEWS PORTAL

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *